ঈদুল আজহা সামনে এলেই কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন মুসলমানরা। অনেকেই গরু, মহিষ কিংবা উটে একাধিক ব্যক্তি মিলে শরিক হয়ে কোরবানি দেন। এতে খরচ কমে, পাশাপাশি ধর্মীয় বিধানও পালন করা সহজ হয়। তবে শরিকি কোরবানির ক্ষেত্রে ইসলামে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, যেগুলো না মানলে কোরবানি সহিহ নাও হতে পারে। তাই কোরবানির আগে এসব মাসআলা জানা অত্যন্ত জরুরি।

ইসলামী শরিয়তে কোরবানি শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে হতে হবে। লোক দেখানো, সামাজিক মর্যাদা কিংবা শুধুমাত্র গোশত পাওয়ার নিয়তে কোরবানি করলে সেই ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছে না, বরং পৌঁছে মানুষের তাকওয়া ও আন্তরিকতা। তাই নিয়তের বিশুদ্ধতা কোরবানির সবচেয়ে বড় শর্তগুলোর একটি।

কোন পশুতে কতজন শরিক হওয়া যায়?

ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা কেবল একজনের পক্ষ থেকেই কোরবানি করা যায়। এসব পশুতে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি শরিক হলে কারও কোরবানিই আদায় হবে না। অন্যদিকে গরু, মহিষ ও উটে সর্বোচ্চ সাতজন পর্যন্ত শরিক হতে পারেন। তবে সাতজনের বেশি অংশীদার হলে সেই কোরবানি শরিয়তসম্মত হবে না। হাদিসে বর্ণিত আছে, সাহাবিরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশনায় একটি গরু ও একটি উটে সাতজন পর্যন্ত শরিক হতেন।

ফিকহবিদদের মতে, প্রত্যেক শরিকের অংশ সমান হতে হবে। কারও অংশ এক সপ্তমাংশের কম হলে পুরো কোরবানিই বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ একজন আধা ভাগ আরেকজন দেড় ভাগ—এভাবে ভাগাভাগি করা বৈধ নয়।

শরিক নির্বাচনে কেন সতর্কতা জরুরি?

ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, শরিকি কোরবানির সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় হলো অংশীদারের নিয়ত ও উপার্জনের উৎস। যদি কোনো ব্যক্তি শুধুই গোশত খাওয়ার উদ্দেশ্যে শরিক হন কিংবা তার অর্থ হারাম উপায়ে উপার্জিত হয়, তাহলে অন্যদের কোরবানিও প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই আলেমরা সবসময় বিশ্বস্ত ও ধর্মীয়ভাবে সচেতন ব্যক্তিদের সঙ্গে শরিক হওয়ার পরামর্শ দেন।

বর্তমানে অনেক এলাকায় অনলাইনে বা সমবায় পদ্ধতিতে কোরবানির ব্যবস্থা দেখা যায়। সেক্ষেত্রেও অংশীদারদের পরিচয়, অর্থের উৎস এবং কোরবানির উদ্দেশ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন ইসলামি গবেষকরা।

একা কেনা পশু পরে শরিক করা যাবে?

অনেক সময় দেখা যায়, কেউ প্রথমে একাই কোরবানি দেওয়ার উদ্দেশ্যে গরু বা মহিষ কিনেছেন, পরে অন্য কাউকে শরিক করতে চান। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, যদি ওই ব্যক্তি সামর্থ্যবান হন, তাহলে তিনি চাইলে অন্যকে শরিক করতে পারবেন। তবে একাই কোরবানি করাকে উত্তম বলা হয়েছে।

অন্যদিকে যিনি মূলত কোরবানির জন্য বাধ্য নন, অর্থাৎ দরিদ্র ব্যক্তি, তিনি যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু কিনে ফেলেন, তাহলে সেই পশুতে নতুন শরিক যুক্ত করা নিয়ে ভিন্ন বিধান রয়েছে। আলেমদের মতে, এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত এবং প্রয়োজনে অভিজ্ঞ মুফতির পরামর্শ নেওয়া ভালো।

জবাইয়ের আগে কোনো শরিক মারা গেলে কী হবে?

শরিকদের মধ্যে কেউ কোরবানির আগে মারা গেলে তার ওয়ারিশরা যদি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোরবানি চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেন, তাহলে কোরবানি করা যাবে। তবে অনুমতি না থাকলে মৃত ব্যক্তির অংশের টাকা ফেরত দিতে হবে এবং প্রয়োজনে নতুন শরিক নেওয়া যেতে পারে।

আকিকা ও কোরবানির নিয়ত একসঙ্গে করা যাবে?

ফিকহের বিভিন্ন কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, গরু বা উটের মতো বড় পশুতে কেউ কোরবানির নিয়ত এবং কেউ আকিকার নিয়ত করতে পারেন। এতে প্রত্যেকের ইবাদত আদায় হয়ে যাবে। অনেক আলেম হজের কোরবানির নিয়ত সম্পর্কেও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তবে এসব ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম জানার জন্য স্থানীয় আলেম বা মুফতির পরামর্শ নেওয়া উত্তম।

কোরবানির মূল শিক্ষা

কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি ত্যাগ, আনুগত্য ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। তাই শরিকি কোরবানি হোক কিংবা একক—সব ক্ষেত্রেই ইসলামের বিধান মেনে বিশুদ্ধ নিয়তে ইবাদত আদায় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় আবেগের পাশাপাশি সঠিক জ্ঞানও কোরবানিকে সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews