জুলাই সনদ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আদেশ, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এবং গণভোটের প্রশ্ন ও সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে হাইকোর্টের চার সপ্তাহের রুল জারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের প্রক্রিয়ায় টেনে আনাকে ‘সমীচীন নয়’ উল্লেখ করে দলটি সতর্ক করেছে যে, এর ফলে জাতীয় জীবনে বিভ্রান্তি ও অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে।
মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিষয়কে আদালতের বারান্দায় টেনে নেওয়া সমীচীন নয়। অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির যে চেষ্টা হয়েছে, তার পরিণতি ইতিবাচক হয়নি; বরং তা জাতীয় জীবনে বিভ্রান্তি ও অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে।’
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দায় এড়াতে আদালতের ওপর চাপ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের অপচেষ্টা চলছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে রিট পিটিশন দায়ের করিয়ে পর্দার আড়াল থেকে ইন্ধন দেওয়া হলে তা ‘দ্বিচারিতা ও আত্মঘাতী পদক্ষেপ’ হিসেবে গণ্য হবে।
অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘পছন্দসই ফল পাওয়ার উদ্দেশ্যে আদালতকে ব্যবহার করার পুরোনো কৌশল পরিহার করতে হবে। সরকার যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে তা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী হবে।’ তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, জনগণ ও জুলাই সনদকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যেকোনো অপচেষ্টা জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
যেকোনো হঠকারী পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কেবল সংলাপ ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত।