লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনা বিশ্বজুড়ে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এর কারণ শুধু ইসরাইলের নৃশংস হামলায় লেবাননে সৃষ্ট ভয়াবহ মানবিক সংকট নয়, বরং এই আলোচনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বনাম ইরান সংঘাতেরও গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হয় ওই মধ্যস্থতা আলোচনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের শুরুর পর এই প্রথম দুই দেশের বড় প্রতিনিধিদল সরাসরি বৈঠকে বসেছে। তবে তাদের আলোচ্যসূচি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। লেবানন তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি চেয়েছে। আর ইসরাইল চেয়েছে শুধু ইরানপন্থী লেবাননি যোদ্ধাগোষ্ঠী সংগঠন হিজবুল্লাহ ও রাজনৈতিক দলকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে। হিজবুল্লাহকে লেবাননে তাদের প্রধান শত্রু মনে করে ইসরাইল।

সম্প্রতি ইসরাইলের চালানো নির্মম হামলায় প্রায় ২০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার পর হিজবুল্লাহ পাল্টা আক্রমণ করে। এ থেকে ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধ শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর থেকে হিজবুল্লাহর অস্ত্র প্রায় নীরব ছিল। অথচ ইসরাইল প্রায় দিনই সেই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, তেল আবিব ইচ্ছাকৃতভাবে হিজবুল্লাহকে আবার যুদ্ধে টেনে আনতে চেয়েছে এবং এখন নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৪৮ সাল থেকেই ইসরাইল লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে আসছে। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে হিজবুল্লাহ গঠনের আগেই একাধিকবার আক্রমণ ও পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন চালিয়েছে। ইসরাইল কেন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে চায়, তার একটি বড় কারণ হলো- ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলি বাহিনীকে সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে হটিয়ে দেয়ার একমাত্র আরব শক্তি ছিল এই সংগঠন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরাইল লেবাননের ভেতরে আরও গভীরে একটি তথাকথিত ‘বাফার জোন’ তৈরি করতে চায়। এটা মূলত ১৯৮২ সালে শুরু করা ব্যর্থ কৌশলের পুনরাবৃত্তি। কিছু চরমপন্থী ইসরাইলি মন্ত্রী এমনকি স্থায়ীভাবে লেবানন দখলের কথাও বলেছেন।

এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে ওআইসি ও আরব লীগকে এই ধরনের পরিকল্পনা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করতে হবে এবং নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরাইল যেন লেবাননের সব অঞ্চল থেকে সরে যায়। হিজবুল্লাহর অস্ত্রের বিষয়টি লেবাননের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। এতে ইসরাইলের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই। অন্যদিকে, তেল আবিব লেবাননের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িক বিভাজন উসকে দেয়ার চেষ্টা করছে। হিজবুল্লাহকে দেশের সমস্যার মূল হিসেবে দেখিয়ে শিয়া জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অন্য সম্প্রদায়গুলোকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে।

লেবাননের জনগণকে এই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধ করতে হবে, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে এবং নিজেদের দেশকে ইসরাইলের প্রভাবমুক্ত করতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ওই অঞ্চলে, বিশেষ করে উপসাগরীয় এলাকায় শান্তি চায়, তাহলে তাকে অবিলম্বে লেবাননে ইসরাইলের হামলা বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে লেবাননের যেসব এলাকা দখল করেছে ইসরাইল, সেখান থেকে ইসরাইলের দ্রুত প্রত্যাহার নিশ্চিত করা জরুরি। তা না হলে লেভান্ট বা উপসাগর- কোথাও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews