কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে এবং লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী টানা দ্বিতীয় বছরের মতো লালকেল্লায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে আয়োজিত ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেননি। ২০২৪ সালের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাহুল গান্ধীর আসন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে তিনি ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পান। কিন্তু লালকেল্লার অনুষ্ঠানে তাকে দ্বিতীয় সারিরও পেছনে বসানো হয়েছিল, যা প্রচলিত রীতি ও প্রোটোকলের ব্যতিক্রম ছিল। বিরোধীরা ঘটনাটিকে কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর প্রতি অপমান হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল। তবে অনুষ্ঠানের আয়োজক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, প্রাঙ্গণে অলিম্পিক পদকজয়ীদের বসার ব্যবস্থা করতে আসনবিন্যাসে কিছু পরিবর্তন করা হয়েছিল। প্রচলিত প্রোটোকল অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বিরোধী দলীয় নেতাকে সামনের সারিতে বসানো হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং খারগে ও রাহুল গান্ধীর এবারের অনুপস্থিতিকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন। এদিকে শাসক দল বিজেপি ও বিরোধীদের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে সদ্য শেষ হওয়া সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনকে কেন্দ্র করে।
বৃহস্পতিবার অধিবেশন শেষ হয়। পুরো অধিবেশনজুড়ে সংসদের কার্যকারিতা ও উৎপাদনশীলতা নিয়ে বারবার পরস্পরকে দায়ী করেছে সরকার ও বিরোধী শিবির। ২০ জুলাই অধিবেশনের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের সংসদের দিকে মিছিল ছিল রাজনৈতিক উত্তেজনার অন্যতম সূচনা। অধিবেশনজুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র সংঘাত দেখা যায়। অধিবেশনে মোট ১২টি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যে মাত্র একটি বিল- পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়ম ঠেকাতে প্রস্তাবিত আইন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অধিবেশন শেষ হওয়ার পর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আয়োজিত প্রচলিত চা-চক্রও বয়কট করে কংগ্রেস। তাদের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিও ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়নি।