দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের গভীরে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে প্রাচীন ‘তিমির গোরস্তান’ বা তিমির মৃতদেহ ও জীবাশ্মের বিশাল সমাহার আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। সমুদ্রতল থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার গভীরে অবস্থিত এই অঞ্চলটির নাম ডায়ামেন্টিনা ফ্র্যাকচার জোন। গবেষকদের মতে, এটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে অন্তত ৫৩ লাখ বছর ধরে তিমির দেহাবশেষ জমা হয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক গবেষক দল সাবমার্সিবল ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে ৩২টি অভিযান পরিচালনা করে এ আবিষ্কার করে। অভিযানে তারা ৪৮৫টি তিমির জীবাশ্ম ও আধুনিক তিমির দেহাবশেষের অবস্থান শনাক্ত করেছেন। গবেষকদের ভাষ্য, এটি পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর এবং সবচেয়ে বিস্তৃত তিমি-জীবাশ্ম অঞ্চল।

গবেষণায় দেখা গেছে, এই অঞ্চলের কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লাখ বছর। জীবাশ্মগুলোর মধ্যে বর্তমানে বিলুপ্ত একটি নতুন প্রজাতির ঠোঁটওয়ালা তিমির সন্ধানও পাওয়া গেছে, যার নাম রাখা হয়েছে টেরোসিটাস বেঙ্গুয়েলি

বিজ্ঞানীদের মতে, মৃত তিমির দেহ সমুদ্রের তলদেশে পড়ে থেকে এক ধরনের বিশেষ বাস্তুতন্ত্র সৃষ্টি করে, যাকে ‘হোয়েল ফল’ বলা হয়। এসব দেহাবশেষকে ঘিরে হাড়-খেকো কৃমি, ভঙ্গুর তারামাছ, ঝিনুক ও অন্যান্য গভীর সমুদ্রের প্রাণী বসবাস করে। আবিষ্কৃত অঞ্চলটিতে এমন পাঁচটি সক্রিয় হোয়েল ফল বাস্তুতন্ত্রও পাওয়া গেছে।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে। গবেষকদের ধারণা, সমুদ্রতলের বিশেষ ভৌগোলিক গঠন এবং তিমির অভিবাসনপথের অবস্থান এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক তিমির দেহাবশেষ জমা হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য শিয়াওতং পেং বলেন, এই আবিষ্কার গভীর সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য, তিমির বিবর্তন এবং কোটি কোটি বছর ধরে চলমান সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য উন্মোচনের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম এই অঞ্চল এখনও অনেকটাই অনাবিষ্কৃত। ফলে ভবিষ্যতে আরও নতুন প্রজাতি ও চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক তথ্য মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিডি-প্রতিদিন/এআইএস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews