লন্ডনের পূর্ব প্রান্তের নিউহ্যাম বহু ভাষা, সংস্কৃতি ও অভিবাসী জীবনের এক বৈচিত্র্যময় জনপদ। এখানে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান, সোমালি এবং নানা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ পাশাপাশি বসবাস করেন। সেই নিউহ্যামের রাজনৈতিক ইতিহাসে এবার নতুন অধ্যায় যোগ করলেন ফরহাদ হোসেন। লেবার পার্টির প্রার্থী হিসেবে তিনি নিউহ্যামের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই রাজনীতিকের বিজয় ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে অভিবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক। ফরহাদ হোসেনের পারিবারিক শেকড় সিলেট জেলার বালাগঞ্জে।
শুক্রবার বিকেলে ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নিউহ্যামের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ৭ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে নিউহ্যাম কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির ফরহাদ হোসেন ২৫ হাজার ৫৩৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মেহমুদ মির্জা পেয়েছেন ২০ হাজার ২৩৪ ভোট।
ফরহাদ হোসেনের জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা নিউহ্যামের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। নিউহ্যাম সিক্সথ ফর্ম কলেজে পড়াশোনা শেষে তিনি ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে প্লাস্টোতে বসবাস করেন। যে এলাকার মানুষ তাঁকে ভোট দিয়ে নেতৃত্বে বসিয়েছেন, সেই জনপদই তাঁর বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, পরিবার ও রাজনৈতিক পরিচয়ের কেন্দ্র।
রাজনীতিতে ফরহাদ হোসেন নতুন নন। ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্লাস্টো নর্থের লেবার কাউন্সিলর ছিলেন। এ সময়ে তিনি নিউহ্যাম কাউন্সিলের একাধিক দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় কাজের এই অভিজ্ঞতা তাঁকে নিউহ্যামের বাস্তব সমস্যা আরও কাছ থেকে বোঝার সুযোগ দিয়েছে।
এই নির্বাচনের পটভূমিও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালের যুক্তরাজ্যের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টি বহু জায়গায় কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। দ্য গার্ডিয়ান জানায়, লন্ডনের কয়েকটি এলাকায় গ্রিন পার্টির উত্থান লেবারের দীর্ঘদিনের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এমন রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও নিউহ্যামে ফরহাদ হোসেনের জয় পূর্ব লন্ডনে লেবারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।
ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এই বিজয় বিশেষ প্রেরণার। বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের স্থানীয় নির্বাচনে পূর্ব লন্ডনের চারটি এলাকায় প্রায় ৮০ জন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যামে তাঁদের এই সাফল্য প্রমাণ করে, ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা স্থানীয় গণতন্ত্রে এখন আরও দৃশ্যমান ও সক্রিয়।
লন্ডনের নিউহ্যামের মেয়র হিসেবে ফরহাদ হোসেনের এই যাত্রা একটি অনুপ্রেরণাময় অধ্যায়। এই বিজয় দেখিয়ে দিল, দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও সেবার মানসিকতা একজন অভিবাসী পরিবারের সন্তানকেও মূলধারার নেতৃত্বে পৌঁছে দিতে পারে। ফরহাদ হোসেন এখন সেই সম্ভাবনার এক দৃশ্যমান নাম।
তথ্যসূত্র:
Newham Council, ১০ মে ২০২৬
The Guardian, ১০ মে ২০২৬