সব ধরনের ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন স্কটল্যান্ডের ৪৩ বছর বয়সী গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। এর মাধ্যমে গর্ডনের ২৪ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের সমাপ্তি ঘটলো। এই সময়ের মধ্যে তিনি ছয়টি স্কটিল লিগ, চারটি স্কটিশ কাপ ও পাঁচটি স্কটিশ লিগ কাপের শিরোপা জয় করেছেন।
যদিও দীর্ঘ সময় ধরে গুরুতর ইনজুরির কারণে গর্ডনের ক্যারিয়ার প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কিন্তু তারপরও তিনি হার্টস, সান্ডারল্যান্ড ও সেল্টিকের অপরিহার্য্য খেলোয়াড় ছিলেন। ২০০৭ সালে তিনি হার্টস ছেড়ে সান্ডারল্যান্ডে যোগ দেন। ওই সময় কোনো গোলরক্ষকের জন্য ব্রিটিশ রেকর্ড ৯ মিলিয়ন পাউন্ডে তিনি দলবদল করেছিলেন।
গত মে মাসে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচই ছিল জাতীয় দলের জার্সিতে গর্ডনের শেষ ম্যাচ। এর আগে, জানুয়ারিতে সেল্টিকের বিপক্ষে হার্টসের হয়ে সর্বশেষ ক্লাব ম্যাচ খেলেছেন।
তিনি ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষেরই স্বপ্ন থাকে। আমার স্বপ্নও সম্ভবত বেশির ভাগ শিশুর মতোই ছিল- আমার ক্লাব ও দেশের হয়ে খেলা, অর্থাৎ হার্ট অব মিডলোথিয়ান এবং স্কটল্যান্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নামা। এটা কি প্রায় অসম্ভব ছিল? হয়তো। কিন্তু অসম্ভব একেবারেই নয়। কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ, বাধা-বিপত্তি, ধাপে ধাপে এগোলে স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়। হার্টসের সমর্থক থেকে হার্টসের খেলোয়াড় হয়ে ওঠার যাত্রাই তার প্রমাণ।’
২০০৪ সালে স্কটল্যান্ডের হয়ে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া গর্ডন জাতীয় দলের হয়ে ৮৪টি ম্যাচ খেলেছেন এবং উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপেও স্কটল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন।
তবে এবারের বিশ্বকাপে তিনি মাঠে নামার সুযোগ পাননি। স্কটল্যান্ডের হতাশাজনক গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের পথে নটিংহাম ফরেস্টের গোলরক্ষক অ্যাঙ্গাস গান তিনটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে খেলেছেন।
গর্ডন বলেন, ‘আমি খুব ভালো গায়ক নই। তবে জাতীয় সংগীত ৮৪ বার গাওয়ার পর কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে, সবচেয়ে বড় স্টেডিয়ামে, সবচেয়ে বড় বড় তারকাদের সাথে খেলার প্রতিটি মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমি কখনোই চাইনি এই যাত্রা শেষ হোক। কিন্তু একসময় তো শেষ হতেই হয়। আমি আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পেরেছি, আর এজন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’ সূত্র : বাসস