ইউরোপের অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক স্কলারশিপ—ইরাসমাস মুন্ডুসের মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া মোটেও সহজ ছিল না। বিশেষ করে প্রতিটি প্রোগ্রামের ভিন্ন ভিন্ন চাওয়া পূরণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বা ল্যাব-সুবিধার অভাব। প্রস্তুতির দিনগুলো স্মরণ করে তন্ময় বলেন, ‘ইরাসমাসের পেছনে আমাকে প্রচুর সময় দিতে হয়েছে। কোন প্রোগ্রাম আমার প্রোফাইলের সঙ্গে যায়, সেটা খুঁজে বের করে সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া...ভীষণ সময়সাপেক্ষ। আমি মনে করি, কেউ যদি বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শুরু থেকেই এই খুঁটিনাটি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ শুরু করে, তার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ অনেক বেড়ে যায়। আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রতিটা ধাপই ছিল একেকটা ধৈর্যের পরীক্ষা।’
তন্ময়ের মতে, সিজিপিএ কম থাকা সত্ত্বেও ল্যাবে কাজ ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এবং গবেষণার প্রতি প্রবল আগ্রহ তাঁকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে আলাদা করেছে। বলছিলেন, ‘যখন স্কলারশিপের কনফারমেশন লেটারটা পেলাম, প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। খুশিতে পরিবারকে খবরটা জানাতেও একটু সময় নিয়েছি।’
যাঁরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন বা যাঁদের সিজিপিএ কম, তাঁদের জন্য তন্ময়ের পরামর্শ, ‘শুধু বইয়ের পড়াশোনা কখনোই যথেষ্ট নয়। আপনি যে বিষয়েই পড়ুন না কেন, মাঠপর্যায়ের বা বাস্তব অভিজ্ঞতা যত বেশি অর্জন করবেন, ততই আপনার দক্ষতা বাড়বে। প্রতিটি সাবজেক্টেরই নিজস্ব উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ আছে, তাই কখনো মন ছোট করা যাবে না। লেগে থাকলে, পরিশ্রম করলে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবেন।’