গত কয়েক দশকে ওয়াশিংটনের ভূরাজনীতি সাজানো হয়েছিল একটি বিশেষ ধারণার ওপর—ফিলিস্তিন সংকটকে আড়ালে ঠেলে দিয়েও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে ‘স্বাভাবিকীকরণ’ সম্ভব। সেই ধারণার চূড়ান্ত রাজনৈতিক বাস্তবায়ন ছিল ২০২০ সালে শুরু হওয়া ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ড’। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানকে ইসরায়েলের সঙ্গে এক টেবিলে বসিয়ে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার প্রায় পূর্ণ আয়োজন শেষ হয়ে এসেছিল।
এমনকি রিয়াদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যখন পরমাণু প্রযুক্তি ও সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে ইসরায়েলকে মেনে নেওয়ার চূড়ান্ত দর–কষাকষি চলছিল এবং সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে ‘ইসরায়েল দিন দিন ঘনিষ্ঠ’ হচ্ছিল, ঠিক তখনই ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং পরবর্তী দুই বছরের গাজা যুদ্ধ সেই সাজানো তাসকে এক ঝটকায় উল্টে দেয়।
গাজার যুদ্ধ দ্রুত এক আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেয়। লেবাননে হিজবুল্লাহর জড়িয়ে পড়া, ইয়েমেনের হুতিদের লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক অবরোধ, সিরিয়ার সমীকরণ পরিবর্তন এবং শেষ পর্যন্ত ইরান ও ইসরায়েল-আমেরিকার সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ বেধেই যায়। ‘স্বাভাবিকীকরণ’ চেষ্টার পেছনে কত বড় অস্বাভাবিক সুড়ঙ্গ লুকিয়ে ছিল, সেটা বিকট আকারে উন্মোচিত হয়ে পড়ে।
এমনকি ২০২৫ সালের নভেম্বরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কাঠামো অনুমোদিত হয়, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি হয় এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে একটি ‘বোর্ড অব পিস’ গাজার ‘অন্তর্বর্তী প্রশাসন’ হিসেবে দায়িত্ব নেয়—তারপরও শেষ রক্ষা হয়নি। বরং যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা ঠুনকো, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে গত কয়েক মাসে।