রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)-এর উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সিরাজুল হক ভূঞার প্রকাশিত বইয়ের একাধিক লেখাকে কেন্দ্র করে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব এবং সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে প্রত্যাখ্যান করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় এই ধরনের লেখা গর্হিত অপরাধ বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। সিরাজুল হক ভূঞার রচিত ‘স্মৃতি ও প্রকৃতি’ নামক বইয়ে শেখ মুজিবকে নিয়ে কাব্য রচনা করেছেন। এসব কাব্যের মাধ্যমে এটাই তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকারীরা দেশ ধ্বংস করে দিয়েছে, দেশ এখন রসাতলে। অন্যদিকে, ‘প্রকৃতি ও প্রেমের কথামালা’ শীর্ষক একটি বই উৎসর্গ করেছেন তার সহকর্মী সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. শফিউল ইসলামকে, যিনি ঢাকা কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা নেতা ছিলেন। এর আগেও সিরাজুল হক ভূঞা তার একাধিক বই, কবিতা এবং লেখনীতে শেখ মুজিব ও বিগত ফ্যাসিস্ট শাসনামলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তিনি এ ধরনের প্রকশ্য দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করতে পারেন কিনা, তা নিয়ে বিটিভির বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী, তা করা যায় কিনা, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে, বিটিভির বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এই দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে অতীতেও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিবাণিজ্য এবং প্রভাব বিস্তারের বিস্তর অভিযোগ ও প্রশ্ন উঠেছিল। বিশেষ করে পতিত সরকারের আমলে প্রশাসন শাখাসহ বিটিভিতে তারা একটি বলয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। লিখিত পরীক্ষায় অনুউত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন নিয়োগে তারা উক্ত দুই কর্মকর্তা তাদের আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন, নিরাপত্তা প্রহরী মো. রফিকুল হক ভূঞা, ট্রান্সমিশন টাইপিস্ট মো. ইব্রাহিম খলিল, উপসহকারী প্রকৌশলী ফারুমা আক্তারসহ আরো অনেকে। সিরাজুল হক ভূঞা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসাবে ১৯৮৯ সালে ষাটলিপিকার পদে যোগদান করেও নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি বাণিজ্যর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, রামপুরাস্থ বনশ্রী প্রজেক্টের এম ব্লকে ১০৮ কাঠা জমির ওপর নির্মাণাধীন জমজম টাওয়ারে তার নিজস্ব ১৭ টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া স্ত্রীর নামে আফতাব নগরের এইচ ব্লকে একটি এবং বনশ্রীর এফ ব্লকে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে বলে জানা যায়। অপরদিকে শফিউল ইসলাম চাকরির শুরু থেকেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক মন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং সাবেক তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর আত্মীয় হিসেবে বিটিভিতে প্রভাব বিস্তার করেছেন। দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যে তাকে কয়েকবার শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। বিটিভির দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে বিটিভিতে প্রভাব বিস্তার করা এই দুই কর্মকর্তা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এই দুই মুজিবপ্রেমী যে, ষড়যন্ত্র করবে না, তার নিশ্চয়তা নেই।