চলতি বছরের ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জিতেছেন আনিকা জামাল ইকবাল। এ বার তাকে দেখা যাবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে। তার হাত ধরে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান। প্রায় ৭৪ বছরে প্রথম বারের জন্য বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চলেছে পাকিস্তান। জিন্নার দেশের হয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন ২৪ বছর বয়সী সুন্দরী এই আনিকা জামাল ইকবাল। এর আগে যে অনিকা কোনও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি তা নয়। ২৪ বছরের এই তনয়া ‘মিস আর্থ’, ‘মিস গ্লোবাল’, ‘মিস কসমো’, ‘মিস ইকো ইন্টারন্যাশনল’ এবং ‘মিস অরা ইন্টারন্যাশনল’-এর মতো প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশ নিয়েছেন। কসমোতে অনুষ্ঠিত ‘ফ্রিডম অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতাতেও আনিকা জিতে নিয়েছেন চারটি খেতাব। তার পড়াশোনা এখনও শেষ হয়নি। বর্তমানে তিনি পাকিস্তানের দানিস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাকাউন্টিং এবং অডিটিং নিয়ে স্নাতোকত্তর স্তরের পড়াশোনা করছেন।
রূপবতী আনিকার মন রয়েছে সমাজকর্মেও। তিনি ‘বিউটি উইদ পার্পস’ নামের একটি প্রকল্প চালান। পাকিস্তানের সকল থ্যালাসেমিয়া রোগীর সহায়তা করাই এই প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। নিজের প্রকল্পের পাশাপাশি আনিকা পাকিস্তানের সামাজিক কর্মে যুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও সক্রিয় ভাবে কাজ করেন। লাহোরের বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থায় আনিকা স্বেচ্ছাসেবী হিসাবে কাজ করেন। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের নিয়েই সে সকল সংস্থাগুলিতে কাজ করা হয়। আনিকা ‘মিস ওয়ার্ল্ড পাকিস্তান’-এর খেতাব জেতার পর ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর তরফে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে আনিকার যাওয়া এই সংস্থার জন্য একটি মাইলফলক স্পর্শ করছে।
দীর্ঘ ২৫ বছরে প্রথম বারের মতো তাদের সংস্থা থেকে কেউ বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চে পা রাখতে চলেছেন। যদিও ইতিহাস বলছে দীর্ঘ ৭৪ বছরে পাকিস্তান বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ ছুঁয়ে দেখেনি। ‘মিস পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন’-এর প্রধান সোনিয়া আহমেদ জানিয়েছেন, পাকিস্তানের জন্য এটি একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হতে চলেছে। তার মতে, পাকিস্তানের প্রতিভা বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার জন্য এটি একটি অত্যন্ত ভাল সুযোগ। পাকিস্তানের প্রতিযোগীরা এর আগে নানা ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছেন। আনিকার কাছেও সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া নতুন কিছু নয়।
তবে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ সে সবের থেকে আলাদা। সেখানে বাহ্যিক সৌন্দর্যের সঙ্গে বোধগম্যতা, জনসমক্ষে কথা বলার ধরন প্রভৃতি বিষয় যাচাই করে দেখা হয়। তবে সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। তিনি ছোট থেকেই জানতেন যে পাকিস্তানের মতো ইসলাম ধর্মাবলম্বী দেশে মডেলিংকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ বিষয় নয়। এ বিষয়ে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন অনেকে। কিন্তু সে সব নিয়ে চিন্তিত নন আনিকা। বর্তমানে তিনি ভিয়েতনামে হতে চলা বিশ্বসুন্দরীর প্রতিযোগিতায় নিজেকে মেলে ধরাতেই গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অনিকার কাছে বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চ কেবল একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। তার প্রধান লক্ষ্য হল, বিশ্বসুন্দরীর মঞ্চকে কাজে লাগিয়ে নিজের দেশের থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সহযোগিতা জোগাড় করা, যাতে তিনি তার প্রকল্পকে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন। আনিকার মা-বাবা তথা পরিবারের সকলে মেয়ের এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি। মেয়ের এক জন সফল মডেল হওয়ার ইচ্ছায় তারা বরাবর পাশে থেকেছেন। আনিকার মা-বাবা কখনও তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে কিছু করার জন্য চাপ দেননি।