এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
রপ্তানি আয়ের গতি কমে আসায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই দেশের পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি আবার বাড়তে শুরু করেছে। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই–নভেম্বর) এই ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলারে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য বা ব্যালান্স অব পেমেন্ট (বিওপি)–এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৭৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–নভেম্বর সময়ে দেশে মোট ২৭ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে একই সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ আয় বেড়েছে মাত্র ০ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–নভেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় ছিল ১৮ দশমিক ০৭ বিলিয়ন ডলার।
আমদানি ও রপ্তানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে ২০ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তার আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২৭ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার।
চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক হিসাবেও ঘাটতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি হওয়া এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে।
চলতি হিসাবের ভারসাম্য প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকলে নিয়মিত লেনদেনে দেশের ঋণের প্রয়োজন হয় না। তবে ঘাটতি দেখা দিলে সরকারকে তা পূরণে ঋণ নিতে হয়। উন্নয়নশীল দেশের জন্য চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ইতিবাচক হলেও বর্তমানে বাংলাদেশের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালান্স ঘাটতিতে রয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে, চলতি অর্থবছরের নভেম্বর শেষে চলতি হিসাবের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৫৭ কোটি ডলার।
তবে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্য বা ওভারঅল ব্যালান্সে তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে রয়েছে দেশ। নভেম্বর শেষে সামগ্রিক লেনদেন উদ্বৃত্ত ছিল ৭৭ কোটি ডলার, যেখানে আগের বছর একই সময়ে এই সূচকটি ছিল ২৫৪ কোটি ডলার ঘাটতিতে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১ হাজার ৩০৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে প্রবাসী আয় ছিল ১ হাজার ১১৪ কোটি ডলার।
এদিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রবাহেও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই–নভেম্বর সময়ে বাংলাদেশ ৪০ কোটি ডলারের এফডিআই পেয়েছিল। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা বেড়ে ৬৫ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে দেশের শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগ বা পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টের চিত্র এখনো নেতিবাচক। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে শেয়ারবাজার থেকে নিট প্রায় ৭ কোটি ডলার বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই খাতে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ঋণাত্মক ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার।