অনেকের সকালটা শুরু হয় কফি দিয়ে। অনেকের বিশ্বাস, ক্যাফেইন ছাড়া শরীর চালু হয় না। কিন্তু স্নায়ুবিজ্ঞান ও ঘুমবিজ্ঞানের গবেষণা বলছে, ঘুম থেকে উঠেই কফি খাওয়া আসলে শরীরের স্বাভাবিক জাগ্রত হওয়ার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে স্বাভাবিকভাবে কর্টিসল হরমোন নিঃসৃত হয়, যাকে অনেক সময় ‘অ্যালার্টনেস হরমোন’ বলে। এই কর্টিসলই আমাদের ঘুম ভাঙাতে, শরীরকে সক্রিয় এবং মনকে সতর্ক করতে সাহায্য করে। অর্থাৎ শরীরের নিজস্ব একটি প্রাকৃতিক অ্যালার্ম সিস্টেম আছে।
এ সময় যদি আমরা কফি খাই, তাহলে ক্যাফেইন শরীরের এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংঘর্ষ তৈরি করে। ক্যাফেইন মূলত অ্যাডেনোসিন নামের একটি রাসায়নিকের কাজ বন্ধ করে দেয়। এই অ্যাডেনোসিনই আমাদের ক্লান্তির সংকেত দেয়। কিন্তু খুব সকালে ক্যাফেইন খেলে ক্লান্তি দূর হয় না, বরং শুধু কিছু সময়ের জন্য চাপা পড়ে থাকে। কিছুক্ষণ পরে যখন ক্যাফেইনের প্রভাব কমে যায়, তখন জমে থাকা ক্লান্তি একসঙ্গে ফিরে আসে। অনেকেরই দুপুরে হঠাৎ ক্লান্তি লাগে, মাথা ঝিমঝিম করে, সেটার একটি বড় কারণ এই খুব সকালে কফি খাওয়া।
এ কারণে বিশেষজ্ঞরা এখন পরামর্শ দেন যে ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট পরে প্রথম কফি খাওয়া ভালো। এতে শরীরের স্বাভাবিক কর্টিসল চক্র ঠিকভাবে কাজ করতে পারে, শক্তি ধীরে ধীরে বাড়ে এবং দিনের মাঝামাঝি হঠাৎ ক্লান্তি নেমে আসে না।