কথা ছিল বিয়ের খাবারে খাওয়ানো হবে খাসির মাংস। কিন্তু পাতে দেওয়া হলো মুরগির মাংস! আর এ থকেই বর ও কনে পক্ষের মধ্যে বেঁধে গেল তুমুল মারামারি। লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে চালানো এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অদ্ভূত ও চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের বিহার রাজ্যের সাহরসা জেলার সিমরি বখতিয়ারপুর শহরে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মোহাম্মদ আনোয়ারের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওরফে চাঁদের সঙ্গে মোহাম্মদ জাভেদ ওরফে মোটোর মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও কর্মকর্তারা জানান, বিয়ের মূল আনুষ্ঠানিকতা বেশ শান্তিপূর্ণ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই শেষ হয়েছিল।
কিন্তু গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর, যখন বরযাত্রীরা খাবারের টেবিলে বসেন।
বরের এক আত্মীয় অভিযোগ করেন, বিয়ের মেনুতে তাদের খাসির মাংস খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু টেবিলে খাবার পরিবেশন করা হলে দেখা যায়, খাসির বদলে মুরগির মাংস দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ফ্রান্সে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শীর্ষ সহযোগী গ্রেফতার

এই নিয়ে বরপক্ষের লোকজন প্রতিবাদ জানালে কনেপক্ষের সঙ্গে তাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে সেই বাকবিতণ্ডা রূপ নেয় হাতাহাতিতে।
উভয় পক্ষের এই মারামারি দ্রুত চরম আকার ধারণ করে। কনেপক্ষের লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে বরযাত্রীদের ওপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক পেটাতে শুরু করে বলে অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই মারামারির বেশ কয়েকটি ভিডিও ইতোমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, উন্মত্ত লোকজন লাঠি দিয়ে অতিথিদের পেটাচ্ছে এবং এমনকি খোলা তলোয়ার উঁচিয়ে ভয় দেখাচ্ছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ডজনখানেক মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে সিমরি বখতিয়ারপুরের মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে।
পরবর্তীতে ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই অপ্রীতিকর ঘটনার পেছনে মূল উসকানিদাতা কারা, তা জানতে পুলিশ ইতোমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্র: এনডিটিভি