সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু বলেছেন, মতপার্থক্য ও বিরোধিতা গণতন্ত্রেরই অংশ। তবে সেই মতপার্থক্যের মধ্য দিয়েই ঐকমত্যে পৌঁছাতে হয়। সংসদ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতান্ত্রিক চর্চার এ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা গেলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে।
শুক্রবার (২৯ মে) নেত্রকোনার কলমাকান্দা আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
নাজমুন নাহার নীলু বলেন, আমি এ এলাকার পুত্রবধূ। দায়িত্ব আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। আমি বিশ্বাস করি, এলাকার সন্তান কায়সার কামাল এবং আমার মধ্যে ভাই-বোনের যে সুমধুর সম্পর্ক রয়েছে, তার মধ্য দিয়েই এ অঞ্চল উন্নয়নের পথে আরও এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে আমার নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকা নেই। ফলে উন্নয়ন ও জনকল্যাণের প্রশ্নে পারস্পরিক দ্বন্দ্বের কোনো সুযোগ নেই।
ভবিষ্যত বাংলাদেশের প্রত্যাশায় তিনি বলেন, আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না, জুলুম চাই না, অত্যাচার-নিপীড়ন চাই না। আমরা এমন একটি রাষ্ট্র চাই, যেখানে মানবতা কথা বলবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং মানুষ মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিক ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারি দলসহ সংসদের সব পক্ষ গণরায়কে সম্মান জানিয়ে কার্যকর গণতান্ত্রিক চর্চা করবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
নারী শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদ্রাসাটিতে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ভবিষ্যতে যোগ্য ও দক্ষ নারী নেতৃত্ব তৈরি হবে, যারা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হবে, দেশ ও সমাজ সম্পর্কে ধারণা রাখবে। কিন্তু তোমাদের মূল কাজ হবে পড়াশোনা করা।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন একসঙ্গে ১২৫ গরু-খাসি কুরবানি, ভাগ করে নিলেন সমাজের ৫৫৫৪ মানুষ

মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল হাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মিজানুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. মিকাইল ইসলাম, এন আকন্দ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারী চান মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনামুল হক তালুকদার ও মোস্তফা কামাল।
মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।