বর্তমান জাতীয় সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপান্তরিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সংস্কার বাস্তবায়নে তাঁরা কোনো অস্থিতিশীলতা চান না। তবে সরকার যদি বিরোধী দলের সহযোগিতাকে উপেক্ষা করে, তাহলে রাস্তায় যেতে বাধ্য হবেন।

শনিবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা: এগোনোর পথ’ শীর্ষক সংলাপে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সংলাপে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সংলাপে নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংস্কার বাস্তবায়নে আমরা আবারও রাস্তায় যেতে চাই না। আমরা কোনো অস্থিতিশীলতা চাই না। রাস্তায় যাওয়া আমাদের শেষ অপশন। কিন্তু সরকার যদি বিরোধী দলের সহযোগিতাকে উপেক্ষা করে, আমরা রাস্তায় যেতে বাধ্য হব।” তিনি অভিযোগ করেন, সরকারি দল সংস্কার প্রশ্নে নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়নি এবং জুলাই সনদ ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মধ্যে একটি “মিথ্যা বাইনারি” তৈরি করেছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে তাঁরা মনে করেছিলেন, একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে এবং জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্বাচন ও গণভোটের দিকে যাওয়া হবে। কিন্তু পরে সরকার সাধারণ সংশোধনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কার বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে। বিএনপি নির্বাচনের জন্য সংস্কারের বিষয়ে আপস করেছিল—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সে সময় তাঁরা জুলাই সনদ ও সংস্কার কমিশনের সবকিছু গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তাঁদের প্রধান উদ্বেগ ছিল নির্বাচন, সংস্কার নয়।

তিনি বলেন, “এখানে দুটি বিষয় রয়েছে। একটি হলো কী ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, আরেকটি হলো কীভাবে তা বাস্তবায়ন হবে। ‘কীভাবে’ প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার একটি সাধারণ সংশোধনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কার করতে চাইছে। কিন্তু আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদ চাই।” সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন আনতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ জরুরি বলেও মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বলেন, উচ্চকক্ষ গঠন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়োগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলোকে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন।

কূটনীতিকদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংস্কার কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়। এটি জাতীয় পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা এখনো আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে সংস্কারের বিষয়ে একটি সমাধানে যাওয়া সম্ভব হবে। বল এখন সরকারের কোর্টে।” সংলাপের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার ও বিএনপি সংস্কার নিয়ে “ছলচাতুরি” করছে। আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও অহিংসভাবে আন্দোলন করব। রাজপথে ইতিমধ্যে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। তবে কর্মসূচি কতটুকু বিস্তৃত হবে বা কঠোর অবস্থানে যাবে, তা নির্ভর করবে সরকার কতটুকু সাড়া দিচ্ছে এবং দাবিগুলো মানছে কি না তার ওপর।”

এর আগে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির উপপ্রধান ও দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সংলাপের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাহিদ ইসলাম।

উন্মুক্ত আলোচনায় ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়ে, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ডেনমার্ক দূতাবাসের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। তাঁদের বেশির ভাগই জানান, তাঁরা মূলত এনসিপির নেতাদের বক্তব্য শুনতে এসেছেন।

সংলাপে আরও বক্তব্য দেন সাবেক নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য মো. আবদুল আলীম এবং নাগরিক কোয়ালিশনের সহসমন্বয়ক ফাহিম মাসরুর। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জানান এনসিপির সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম। সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আলাউদ্দীন মোহাম্মদ।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা আলম মিতু এবং দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews