যে প্রশ্নে শুধুই হাহাকার
সালমানের মৃত্যুর দিনের প্রসঙ্গ উঠতেই নীলা চৌধুরীর কণ্ঠে ফিরে আসে দীর্ঘদিনের বেদনা ও প্রশ্ন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অল্প বয়সে আমার ছেলেকে কেন যেতে হবে। কেন কিছু মানুষ তাকে হত্যা করল। কারও তো কোনো ক্ষতি করে নাই সালমান।’ এই প্রশ্নগুলো তাঁর মনে আজও ঘুরে বেড়ায়। সালমানের মায়ের কথায়, ‘আমার ছেলে কারও ক্ষতি চাইত না। সালমানের মধ্যে এতটুকু বেয়াদবি ছিল না। সে পরিশ্রমী ছিল। সে নিজের কাজের প্রতি ভীষণ যত্নশীল ছিলেন। কেন আমার ছেলেকে হত্যা করল ওরা। আমি এর ন্যায়বিচার দেখেই মরতে চাই। যারা আমাকে হুমকি দিয়েছি, তাদেরও সবার বিচার হবে। আমার ইমনকে ওরা কেন খুন করল। ছেলেটা আমাকে ছেড়ে চলে গেল। আমার ইমন।’ কথাটি বলতে গিয়ে আবারও আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তবে তিনি ছেলের হত্যার বিচার চান।

৪ ভরির সোনার চেইন
সালমান শাহর সঙ্গে মায়ের শেষ স্মৃতিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আবেগঘন একটি স্মৃতি তাঁর গলার চার ভরি ওজনের সোনার চেইন। সালমানের গলা থেকে সেই চেইনটি নিয়েছিলেন নীলা চৌধুরী। এত বছর পরও সেটি তাঁর কাছে কেবল একটি অলংকার নয়। সেটি তাঁর সন্তানের স্মৃতি, তাঁর ইমনের স্পর্শের শেষ চিহ্নগুলোর একটি। নীলা চৌধুরী বলেন, ‘ইমনের গলা থেকে চার ভরি স্বর্ণের চেইনটা আমি নিয়েছিলাম। সেই চেইন আমি সঙ্গে রাখি। এটাই আমার কাছে আমার ইমন।’ একটি চেইন, কিছু পুরোনো স্মৃতি আর অসংখ্য না–বলা কথা—এই নিয়েই যেন একজন মা আজও তাঁর ছেলেকে কাছে রাখেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেমে গিয়েছিল সালমান শাহর জীবন। কিন্তু তাঁর মায়ের কাছে ইমন থামেননি। তিনি রয়ে গেছেন সেই ৫ সেপ্টেম্বরের কথোপকথনে, মায়ের অসমাপ্ত ভ্রমণের পরিকল্পনায়, পুরোনো ছবিতে, প্রিয় জিনিসপত্রে—আর সবচেয়ে বেশি রয়ে গেছেন একটি নামের মধ্যে—‘আমার ইমন।’

নতুন করে আলোচনায় সালমান হত্যাকাণ্ড
গত রোববার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক হন খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হক। সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তাঁর মৃত্যুর ‘প্রকৃত কারণ’ নিয়ে নানা আলোচনা-জল্পনা আছে। তাঁর মৃত্যুর ২৯ বছর পর গত বছর আদালত হত্যা মামলা করার নির্দেশ দেন। সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, খলচরিত্রের অভিনেতা ডন হকসহ মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়। অন্য আসামিরা হলেন সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ। মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ আগস্ট তারিখ ধার্য আছে।

সবশেষে নীলা চৌধুরী বললেন,‘প্রধান আসামীসহ আরও যাঁরা রয়ে গেছেন, তাঁদের গ্রেপ্তার করা হোক। কেউ যেন পালিয়ে যেতে না পারে। আমি মা হয়ে ছেলে হত্যার বিচার দেখতে চাই। সেই কারণেই আজও বেঁচে আছি।’



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews