ভারত প্রতিষ্ঠায় ইসলাম ও মুসলিমদের ঐতিহাসিক অবদান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। তিনি আরো বলেছেন, আমাদের ইতিহাসে অনেক কিছুই বিদ্যমান। একইসাথে ইতিহাসের অংশ হিসেবে অনেক ভুল ও অবাস্তব আখ্যানকে অন্তর্ভুক্ত করারও প্রচেষ্টা চলছে। এমতাবস্থায়, ইতিহাসের সঠিক আখ্যানটি অনুধাবন করা, সত্যের সন্ধান করা এবং তা সমাজের সামনে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) ভারতের একটি সংবাদমাধ্যম জানায়, নয়া দিল্লিতে অবস্থিত ইন্ডিয়া ইসলামিক কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত একটি সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী ওই সম্মেলনের আয়োজন করে ‘ইন্ডিয়ান হিস্ট্রি ফোরাম’। সম্মেলনটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘ভারতের ইতিহাস, সমাজ ও সভ্যতায় মুসলমানদের অবদান; এক পুনর্মূল্যায়ন’।
কর্মসূচির প্রথম দিনে শশী থারুর ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমির সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি, কংগ্রেস নেতা গুরদীপ সিং সপ্পল, সাবেক রাজ্যসভা সদস্য মোহাম্মদ আদীব, ইন্ডিয়া হিস্ট্রি ফোরামের আহ্বায়ক ড. শাদাব মুসাসহ গণ্যমান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
জামায়াতে ইসলামী হিন্দের আমির সৈয়দ সাদাতুল্লাহ হুসাইনি বলেন, যেকোনো জাতি ও দেশের জন্য ইতিহাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ইতিহাস কেবল তথ্যের সমষ্টি নয়; বরং তা ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের ইতিহাসে ইসলাম ও মুসলমানদের তাৎপর্যপূর্ণ অবদান সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টিকে কোনোভাবেই বিস্মৃত হওয়া চলবে না; কিংবা কোনো ‘সম্মিলিত স্মৃতিভ্রংশ’ বা ‘সামষ্টিক বিস্মৃতি’র শিকার হওয়া যাবে না। পাশাপাশি, ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ দিয়ে ঐতিহাসিক উপলব্ধিকে প্রভাবিত করার সুযোগ দেয়াও উচিত নয়।
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এ ধরনের সম্মেলন ও কর্মসূচির আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, আজ ইতিহাসকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এমতাবস্থায়, মুসলমান এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ সকল মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে এবং বিশ্বের সামনে ইতিহাসের সঠিক আখ্যানটি তুলে ধরতে হবে।
মোহাম্মদ আদিব বলেন, যখন কোনো সভ্যতাকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা চলে, তখন তার ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়; বর্তমানে ঠিক এমনটাই ঘটছে, যা আমাদের নিজস্ব সত্তা বা পরিচয়ের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সম্মেলন চলাকালীন, ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন, যেখানে অর্থনীতি, বাণিজ্য, সমাজতত্ত্ব এবং রাজনীতির মতো ক্ষেত্রগুলোতে মুসলমানদের তাৎপর্যপূর্ণ অবদানগুলো তুলে ধরা হয়। মুসলিম নারীদের ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়েও একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জ্ঞানী, বুদ্ধিজীবী, গবেষক, ধর্মীয় নেতা, সমাজকর্মী এবং সাধারণ মানুষ বিপুল সংখ্যায় এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা ইতিহাসের একটি সঠিক আখ্যান বিনির্মাণে এবং এর মাধ্যমে জাতি ও সমাজের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখতে নিজেদের সাধ্যমতো অবদান রাখার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করেন।