আজকের ব্যস্ত জীবনে কানে ইয়ারবাড না থাকলে যেন অনেকেরই দিন শুরুই হয় না। অফিসে যাওয়ার পথে, বাস বা ট্রেনে, এমনকি হাঁটতে বেরোলেও অনেকের কানে থাকে ওয়্যারলেস ইয়ারবাড। ছোট আকারের এই ডিভাইসটি ব্যবহার করতে যেমন সুবিধাজনক, তেমনি অসাবধানতাবশত হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশ বেশি। বিশেষ করে ভিড়ের মধ্যে পড়ে গেলে বা কোথাও রেখে ভুলে গেলে সেটি খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তবে আপনি যদি অ্যাপল এয়ারপডস ব্যবহারকারী হন, তাহলে দুশ্চিন্তার কারণ কিছুটা কম। কারণ অ্যাপলের একটি বিশেষ ফিচারের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া এয়ারপডের অবস্থান খুঁজে পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (টিউটর)-এ এক ব্যবহারকারী তার এয়ারপড হারানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তিনি জানান, ভ্রমণের সময় তার এয়ারপডটি হারিয়ে যায়। পরে তিনি অ্যাপলের ট্র্যাকিং ফিচার ব্যবহার করে দেখতে পান ডিভাইসটি অন্য একটি শহরে সক্রিয় রয়েছে। যদিও দূরত্বের কারণে সেটি ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিভাইসটির অবস্থান শনাক্ত করা গিয়েছিল।
এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্ভব হয়েছে অ্যাপলের ট্র্যাকিং সার্ভিস ফাইন্ড মাই-এর মাধ্যমে। এই অ্যাপটি মূলত একটি বড় ক্রাউডসোর্সড ট্র্যাকিং নেটওয়ার্কের মতো কাজ করে। হারানো ডিভাইস কাছাকাছি থাকা অন্যান্য অ্যাপল ডিভাইসের সঙ্গে সুরক্ষিত ব্লুটুথ সিগন্যালের মাধ্যমে যোগাযোগ করে। এরপর সেই তথ্য অ্যাপলের সার্ভারে পৌঁছে যায় এবং ব্যবহারকারী নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে ডিভাইসটির অবস্থান দেখতে পারেন।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো ব্যবস্থাটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তৈরি করা হয়েছে। অ্যাপলের এই নেটওয়ার্কে ডেটা এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনের মাধ্যমে সুরক্ষিত থাকে। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বা ডিভাইসের পরিচয় অন্য কেউ দেখতে পারে না।
এই ফিচার চালু থাকলে ডিভাইস হারিয়ে গেলেও তার সর্বশেষ অবস্থান জানা সম্ভব হয়। তাই যারা নিয়মিত এয়ারপড ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এই সেটিংস সক্রিয় রাখা বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
ছোট একটি ডিভাইস হলেও এয়ারপড হারালে খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সেই কাজটাই অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো চালু করে রাখলে বিপদের সময় তা বেশ কাজে আসে।
কেএসকে