বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে জেরার্ড পিকের হৃদয় যেন দুই দিকে টানছে। একদিকে নিজের দেশ স্পেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও বন্ধু লিওনেল মেসি। তাই স্পেনের সাবেক এই তারকা ডিফেন্ডারের কাছে ফাইনালটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং আবেগ আর সম্পর্কের এক বিশেষ সমীকরণ।
২০১০ বিশ্বকাপজয়ী পিকে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি চান স্পেন বিশ্বকাপ জিতুক। তবে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হলেও মেসির জন্য তিনি সমানভাবে আনন্দিত হবেন।
পিকে বলেন, আমি মনে-প্রাণে চাই এবারের বিশ্বকাপ স্পেন জিতুক। তবে আর্জেন্টিনা যদি শিরোপা জেতে, তাহলে লিওনেল মেসির জন্য আমি ভীষণ খুশি হব।
ফাইনালের আগে স্পেনকে এগিয়ে রাখলেও আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে মেসির নামই উচ্চারণ করেছেন বার্সেলোনার সাবেক এই ডিফেন্ডার। তার মতে, পুরো টুর্নামেন্টে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল সবচেয়ে পরিপূর্ণ ও আকর্ষণীয় দলীয় ফুটবল খেলেছে। তবে প্রতিপক্ষ যখন আর্জেন্টিনা এবং মাঠে যখন মেসি থাকেন, তখন যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে।
পিকে বলেন, ফুটবলে সবসময় কাগজে-কলমে সেরা দলই জেতে না। অনেক সময় প্রত্যাশার বাইরে গিয়েও ফল নির্ধারিত হয়। তার মতে, দলগত শক্তি ও সমন্বয়ের বিচারে এবারের বিশ্বকাপে স্পেনই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল। ফ্রান্সের মতো তারকাসমৃদ্ধ দল যেখানে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে স্পেন নিজেদের দলীয় নৈপুণ্য দিয়ে আলাদা করে নজর কেড়েছে।
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন ২০১৪ ফাইনালে জার্মানির কৌশলে মেসিকে বোতলবন্দি করবে স্পেন?

তবে ফাইনালের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তিনি দেখছেন লিওনেল মেসিকে। আর্জেন্টিনা অধিনায়কের ফুটবল বুদ্ধিমত্তার ভূয়সী প্রশংসা করে পিকে বলেন, মেসির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ফুটবল মস্তিষ্ক। সে জানে এখন তার বয়স ২৫ নয়, কিন্তু মাঠের কোথায় অবস্থান নিলে প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা যাবে, সেটা সে অন্য সবার চেয়ে ভালো বোঝে। এই প্রতিভা জন্মগত এবং একেবারেই অনন্য।
স্পেনকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, মেসিকে থামানোর জন্য একজন, দুজন কিংবা তিনজন ডিফেন্ডার দিলেও সব সময় কাজ হবে না। সে কোনো না কোনোভাবে সমাধান বের করে নেয়।
বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। একদিকে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলগত শক্তিতে ভরপুর স্পেন, অন্যদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা। একই সঙ্গে ম্যাচটি হয়ে উঠতে পারে দুই প্রজন্মের দুই তারকা—মেসি ও লামিন ইয়ামালের বহুল প্রতীক্ষিত দ্বৈরথের মঞ্চ।