সাতক্ষীরা সদর থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিলাস মন্ডল তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এর আগে, ২০২৫ সালের ২০ মে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগরের নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার হন সাবেক সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতি। পরদিন তাকে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৭৭/২৫ মামলার সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

পরে সাতক্ষীরা সদর থানার জিআর ৯৬/২৫ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। ২০২৫ সালের ১১ জুন তাকে আসামি করে সাতক্ষীরা সদর থানায় নতুন একটি মামলা দায়ের ও গ্রেফতার দেখানো হয়। এরপর হাইকোর্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুটি মামলায় ও সম্প্রতি একটি মামলায় জামিন পান তিনি।

লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী অ্যাডভোকেট আল মাহামুদ পলাশ জানান, কারামুক্ত হওয়ার আগেই ২০২৫ সালের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার (শ্যোন অ্যারেস্ট) দেখানো হয়েছে। নতুন এই মামলায় তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, রবিবার আদালতে আসামির শ্যোন অ্যারেস্টের আবেদন জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাৎক্ষণিক জামিনের আবেদন পেশ করেন। এ নিয়ে শুনানি শেষে বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আমলী সদর ১ম আদালতে (সাতক্ষীরা) দণ্ডবিধির ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১/৩৪ ধারায় নতুন এই নালিশি মামলাটি দায়ের করেছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামের মৃত অহেদ আলীর স্ত্রী পারুল বেগম।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৬ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে মামলার এজাহারনামীয় ৪৭ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন আসামি পরিকল্পিতভাবে বাদীর বসতবাড়িতে বেআইনি জনতাবদ্ধে অনধিকার প্রবেশ করে। সে সময় বাদীর শিশুকন্যাকে ঘর থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরসহ ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মালামাল লুট করে প্রায় ৬/৭ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এছাড়া ঘর থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকা, সোনার গহনা (৬ ভরি) এবং মৃত অহেদ আলীর ব্যবহৃত একটি প্লাটিনা মোটরসাইকেলসহ প্রয়োজনীয় দলিলপত্র লুট করে নেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তৎকালীন সময়ে আসামিরা পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে ঘরে ঢুকে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করতে থাকে। একপর্যায়ে বাদীর স্বামী অহেদ আলীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বসতবাড়ি থেকে কিছু দূরে পাকা রাস্তার পাশে আমবাগানে তাকে নির্মমভাবে খুন করে ফেলে রাখা হয়।

পরের দিন অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৭ মার্চ সকালে বাদীর স্বামী অহেদ আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন সময়ে দেশে আইনের শাসন ও সুশাসন সুপ্রতিষ্ঠিত না থাকায় এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তৎকালীন প্রভাবশালীদের কারণে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বাদী এতদিন কোনো ন্যায়বিচার ও প্রতিকার পাননি। বর্তমানে দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় বাদী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।

আদালত বাদীর আবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে সাতক্ষীরা সদর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন।

এ মামলায় তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতক্ষীরা) মীর্জা সালাউদ্দীন, ডিবির ওসি মহিদুল, সাতক্ষীরা সদর থানার তৎকালীন ওসি মো. আসাদুজ্জামানসহ মোট ৪৭ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।

বিডি প্রতিদিন/এমআই



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews