জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, এমন কোনো লোভ ছিল না, যা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ভারতে পলাতক) আমাকে দেখাননি। আমি যদি তার কথা শুনতাম, তাহলে তার পরেই আমার অবস্থান হতো। আমি বলেছি, আমার
বয়স ৮০ বছর হয়ে গেছে। এখন আর এগুলো করার সময় নেই। গতকাল ভোলার সার্কিট হাউসে জেলার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আরও বলেন, জিয়া পরিবারের বাইওে কোনোদিন আমার কোনো চিন্তাচেতনা ছিল না। আমি জীবনে এককভাবে পথ চলেছি। যখন যেটা সত্যি মনে হয়েছে, মুখ তুলে বলেছি। এজন্য অনেকে নানারকম কথা বলেছে। আমাকে বলেছে দল ত্যাগ করে চলে যেতে। মাফিয়া হাসিনাও অনেকবার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, জেনারেল জিয়াউর রহমানের অধীনে আমি যুদ্ধ করেছি এবং বেগম জিয়া আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আমি জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়ার প্রতি সব সময় অনুগত ছিলাম।
নির্বাচনের পর এই প্রথম তাঁর নিজ জেলা ভোলায় এসেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের হাফিজ উদ্দিন বলেন, স্পিকার হিসেবে ভোলায় পদার্পণ করার মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। গত ২০ বছর বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের ব্যবস্থা ছাড়া উন্নয়নের কোনো মাধ্যম আবিষ্কার হয়নি। আমরা অন্তত ভাগ্যবান বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রমনা। রাজনীতি সচেতন। তারা কোনো স্বৈরশাসনকে মেনে নেয় না।
সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয় : আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল জানান, গতকাল দুপুরে বরিশাল সার্কিট হাউসে চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সংসদে ওয়াকআউট করা বিরোধী দলের অধিকার, আমরা যখন বিরোধী ছিলাম। আমরাও করেছি। এটা রাজনৈতিক চর্চা।
তবে দীর্ঘস্থায়ী ওয়াকআউট কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে সংসদ বয়কট করলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য তারা যেন কারণে-অকারণে ওয়াকআউট না করেন, বিরোধী দলের প্রতি তিনি সে আহ্বান জানান। এ সময় সরকারি দলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন বিরোধী দলকে একোমোডেট করেন। বিরোধী দলকে কাজ করার মতো তাদের সেই স্পেসটা যাতে দেন। বিশেষ করে যেসব দল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে রাজপথে একত্রে আন্দোলন করেছে তারা যেন নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখে। এটা না হলে বিদেশে যারা পালিয়ে আছেন তারা দেশে ফিরে এসে দুঃশাসন কায়েম করবেন। সুতরাং নিজের দলের মেনিফেস্টো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জনগণের অধিকার যাতে হরণ করা না হয়, সেজন্য সরকার ও বিরোধী দল যত্নবান থাকবে সেই আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।