আগস্টের শুরুর দিকের এক সন্ধ্যা। লিসবনের একটা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে আছেন একজন মানুষ, যাঁর গোটা জীবনটাই কেটেছে মাঠের ঠিক মাঝখানে, আলোর কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবে সেদিন তিনি দর্শক।
বিশ্বকাপের পর ছুটি কাটাতে কাটাতেই একটা প্রীতি ম্যাচ দেখতে গিয়েছিলেন ৪১ বছর বয়সী এই মানুষটা। মাঠে নেমেছে দুটি দল। একটাতে মিশে আছে তাঁর কয়েক বছরের ঘাম। আরেকটাতে সদ্য ঢেলেছেন তাঁর অর্থ। আল নাসর, যাদের জার্সি গায়ে এখনো প্রতি সপ্তাহান্তে তিনি দৌড়ান। আর আলমেরিয়া, যে ক্লাবের কিছু শেয়ার এই বছর ফেব্রুয়ারিতেই তিনি কিনে নিয়েছেন।
খেলা শেষ হলো ২-০ গোলে। যে দলের জার্সি পরেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, সেই দলটাই হারল। যে দলে তাঁর টাকা লগ্নি করা, জিতল সেই দল।
গ্যালারিতে বসে সেদিন ঠিক কী অনুভব করেছিলেন রোনালদো, তা জানার উপায় নেই। কিন্তু সেই একটা সন্ধ্যায় যেন ধরা পড়ে গেল আজকের ফুটবলের সবচেয়ে অদ্ভুত এক বাস্তবতা। একসময় অবসরের পরও ফুটবলের সঙ্গে জড়িত থাকতে গেলে ফুটবলারদের পথ ছিল দুটো। কোচিং করানো কিংবা বিশ্লেষক হওয়া। এখন আছে তৃতীয় পথ। সবচেয়ে লোভনীয়ও বোধ হয় সেটাই। ক্লাবের কর্মচারী নয়, সরাসরি অংশীদার হওয়া।