চলতি মাসের শুরুতে হ্যাম্পশায়ারের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন জেডেন সিলস। আগামী কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে তার নতুন দলের হয়ে খেলার কথা ছিল। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকে কাউন্টিতে খেলতে অনুমতি দিচ্ছে না, ফলে চুক্তি ভেস্তে গেছে।
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানিয়েছে, নিজেদের শীর্ষ পেসারদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তারা ‘সক্রিয় ও সুনির্দিষ্ট’ পদক্ষেপ নিচ্ছে। সেটির অংশ হিসেবেই আটকে দেওয়া হয়েছে সিলসের কাউন্টি চুক্তি।
খবরটি প্রকাশিত হয়েছে এখন, তবে চুক্তির পরপরই সিলসকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অনাপত্তিপত্র তাকে দেওয়া হবে না। অস্ট্রেলিয়ান পেসার মাইকেল নিসারের বদলি হিসেকে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুর ভাগের জন্য সিলসকে নিয়েছিল হ্যাম্পশায়ার। এখন বদলি ক্রিকেটারের বদলি খুঁজতে হবে দলটিকে।
শুধু সিলস নয়, সামনের ব্যস্ত আন্তর্জাতিক মৌসুমে তাকিয়ে আলজারি জোসেফ ও শামার জোসেফের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টেও বাড়তি নজর দিচ্ছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সামনের ব্যস্ত মৌসুমে ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা, নিউ জিল্যান্ড ও পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে ক্যারিবিয়ানরা, এছাড়া সফর আছে বাংলাদেশ ও ভারতে।
সিলসের পাশাপাশি দুই জোসেফই বেশ চোটপ্রবণ এবং অনেক ম্যাচ তাদেরকে মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে। পিঠের চোটের কারণে গত সেপ্টেম্বরের পর থেকে কোনো ধরনের ক্রিকেটেই খেলতে পারেননি আলজারি জোসেফ। এবার পিএসএল দিয়ে তিনি মাঠে ফিরছেন। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে খেলার অনাপত্তিপত্র দিয়ে বোর্ড জানিয়েছে, “টুর্নামেন্টজুড়ে এবং দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক সিরিজের আগে প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্পগুলোতে তার ওয়ার্কলোড ও অগ্রগতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখা হবে।”
আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম দুই রাউন্ডে খেলানো হবে সিলসকে। এই টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকে পাওয়া যাবে শামারকে। তবে বোর্ড জানিয়েছে, খেলার আগে বোলিং কোচের দেওয়া একটি ‘কাঠামোগত লোডিং পরিকল্পনা’ অনুযায়ী ‘নিয়ন্ত্রিত অনুশীলন সেশনে’ অংশ নিতে হবে তাকে।
এই তিন পেসারকে নিয়ে এত সতর্কতার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেট পরিচালক মাইলস বাসকম্ব।
“ফাস্ট বোলাররা আমাদের অন্যতম মূল্যবান সম্পদ এবং এই মৌসুমে প্রতিটি সংস্করণ ও প্রতিটি প্রতিযোগিতায় তাদের কাছ থেকে সেরাটা আশা করা হচ্ছে। আমরা যে পরিকল্পনাগুলো গ্রহণ করেছি, তা সুচিন্তিত। আমরা সক্রিয় এবং সুনির্দিষ্টভাবে কাজ করছি যাতে জেডেন, শামার এবং আলজারি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ফিট থাকে, তাদেরকে পাওয়া যায় এবং সেরা ফর্মে থাকে।”
ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিবৃতিতে আরও বিশদভাবে ফুটে উঠেছে পেসারদের নিয়ে তাদের পরিকল্পনা।
“সামনের সময়টার চ্যালেঞ্জের ব্যপকতা ও তীব্রতাই ফুটে উঠছে এই ক্রিকেটারদের এমন সুচিন্তিত ব্যবস্থাপনায়। ঘরের মাঠের আন্তর্জাতিক সিরিজগুলো শুরু হওয়ার আগে প্রস্তুতিমূলক ক্যাম্প হবে, যাতে দল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে মাঠে নামতে পারে। ঘরের মাঠের সিরিজ সূচিতে রয়েছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি সব সংস্করণের সিরিজ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। সব মিলিয়ে ব্যস্ত সূচি, যা ফাস্ট বোলিং গ্রুপের ওপর উল্লেখযোগ্য শারীরিক চাপ তৈরি করবে।”
“ঘরের মাঠের সিরিজগুলোর শেষ হওয়ার পর, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগেও তীব্র লড়াইয়ের সুযোগ করে দেবে, এরপর দলটি ভারত ও বাংলাদেশ সফরের দিকে মনোযোগ দেবে। এই পুরো সময়ে সব সংস্করণের ফাস্ট বোলাররা দলের জন্য সবচেয়ে মূল্যবান এবং তাদেরকে অনেকভাবেই ব্যবহার করা হবে। কাজেই এই সময়জুড়ে আমাদের অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে তাদেরকে ঠিকভাবে সামলানো।”
বিডি প্রতিদিন/নাজিম