বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন জেলে, বরফকল মালিক, ব্যবসায়ী এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষাকে সামনে রেখে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী তিন থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং চলতে থাকে। দ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলার বরফকলগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে জেলেদের প্রয়োজনীয় বরফ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পর্যাপ্ত বরফের অভাবে মাছ সংরক্ষণে ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় অনেক জেলে গভীর সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। ট্রলার মালিক ও জেলেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। মৎস্যনির্ভর এ উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অনেকেই মোমবাতি বা কুপির আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তীব্র গরমে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, পর্যাপ্ত বরফ না পাওয়ায় বহু ট্রলার সাগরে যেতে পারছে না। এতে প্রতিদিন ট্রলার মালিক ও জেলেরা বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিন আগে একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিনিধি বিদ্যুৎ অফিসে গেলে তাকে হয়রানির চেষ্টা করা হয়েছিল।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক বদিরুজ্জামান সাহেব বলেন, বর্তমানে পাথরঘাটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ আসে ভান্ডারিয়া থেকে। ভান্ডারিয়া থেকে পাথরঘাটার দূরত্ব প্রায় ৬৬ কিলোমিটার এবং মাঝখানে মঠবাড়িয়া উপজেলার ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। দীর্ঘ এই সঞ্চালন ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের সমস্যা দেখা দেয়।
তিনি আরও বলেন, পাথরঘাটায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে হলে নিকটবর্তী বরগুনা থেকে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এতে দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকট ও জনভোগান্তি অনেকটাই দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে পাথরঘাটা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আরিফ শাহরিয়ার বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে গেছে। পাথরঘাটা উপজেলায় দৈনিক প্রায় ১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণেই বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হবে।