ব্যাটে-বলে দুর্দান্ত প্রস্তুতি নিয়েও সবশেষ বিশ্বকাপ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে যায়নি টাইগাররা। থাকতে হয় দর্শক হয়েই। তবে এবার মাঠে ফেরার পালা। বিশ্বকাপে অংশ না নেওয় গত পাঁচ মাসে আর টি-টোয়েন্টি খেলা হয়নি টাইগারদের। গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষবার টি-টোয়েন্টি খেলেছিল বাংলাদেশ দল।

তবে সবকিছু ঠিক আজ সোমবার চট্টগ্রামে চলতি বছরে প্রথমবার টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবে লিটন বাহিনী। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে খেলবে টাইগাররা।

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে দু’দল। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার বদলে দুপুর ২টায় শুরু হবে খেলা।

গত বিশ্বকাপের আগের বছরটি দুর্দান্ত কেটেছিল বাংলাদেশের। ৩০ ম্যাচের ১৫টি জিতেছিল তারা। সিরিজ হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো দলকে।

সব মিলিয়ে ওই বছরে ২৩টি ফিফটির পাশাপাশি ১টি সেঞ্চুরিও করেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তবে সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা যায় ছক্কা মারার সামর্থ্যে।

বছরজুড়ে মোট ২০৬টি ছক্কা মারেন ব্যাটাররা। এর মাঝে সর্বোচ্চ ৪১টি ছক্কা মারেন তানজিদ হাসান তামিম। কম যাননি পারভেজ হোসেন ইমন (৩৪), সাইফ হাসান (২৯), লিটনরা দাসও (২৩)।

নির্দিষ্ট বছরে দুই শ’র বেশি ছক্কা মারা চতুর্থ দেশ হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের আগে এই কীর্তি ছিল ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের।

২০২৫ সালে বল হাতেও কম যাননি রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা। বছরজুড়ে সর্বোচ্চ ৩৩ উইকেট নেন রিশাদ। এছাড়া অন্তত ২০ উইকেট নেন আরো ৪ বোলার।

মোস্তাফিজুর রহমান ২৬, তাসকিন আহমেদ ২৪, তানজিম হাসান সাকিব ২৩ ও শেখ মেহেদি হাসান ২২ উইকেট নেন গত বছর।

স্বপ্নের বিশ্বকাপে না খেলার তিক্ত স্মৃতি ভুলে এবার নতুন পথচলা শুরুর অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে হবে আগামী ২০২৮ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। যার প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে দলকে।

সাধারণত সেই দেশগুলোতে খেলা হয় স্পোর্টিং উইকেটে। চট্টগ্রামের উইকেটও প্রথাগতভাবে মোটামুটি তেমনই বলা যায়। যেখানে তুলনামূলক ব্যাটিং সহায়ক হয় উইকেট।

চট্টগ্রামের মাঠে দিনে হওয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে প্রথম ইনিংসের গড় রান ১৬৩। ওয়ানডে সিরিজে ছন্দে থাকা তানজিদ তামিম, লিটনদের জন্য এটি হতে অনুপ্রেরণাদায়ক।

বাংলাদেশের জন্য এই ম্যাচে চ্যালেঞ্জ হতে পারে নিউজিল্যান্ডের অপরিচিত ক্রিকেটাররা। গত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকা ইশ সোধি শুধু আছেন এই সিরিজের দলে।

অস্থায়ী অধিনায়ক টম লাথামের নেতৃত্বে রীতিমতো নতুন চেহারার দল নিয়েই সিরিজটি খেলছে কিউইরা। আইপিএল ও পিএসএলের ব্যস্ততায় নিয়মিত একাদশের প্রায় কাউকেই পাচ্ছে না সফরকারীরা।

এদিকে স্বাগতিকদের বোলিং আক্রমণেও নেই অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত তারকারা। এই সিরিজে বিশ্রাম দেয়ায় হয়েছে তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাহিদ রানাদের।

নতুনদের সুযোগ করে দিতে অভিজ্ঞদের বিশ্রাম দিয়ে ম্যানেজমেন্ট। যদিও শরীফুল ইসলাম, তানজিম সাকিবরাও এখন অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। আছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও।

এছাড়া প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার সামনে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও রিপন মন্ডল। দু’জনেই বেশ পরীক্ষিত। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই অভিষেকের অপেক্ষায় তারা।

বাংলাদেশের জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সবশেষ দুই সিরিজের ফল। ২০২১ সালে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচ সিরিজে কিউইদের ৩-২ ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ।

আর ২০২৩ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে তাদের মাঠেই টাইগাররা ১-১ ব্যবধানে ড্র করে তিন ম্যাচের সিরিজ। এরপর অবশ্য গত দু’বছরে দু’দলের টি-টোয়েন্টিতে দেখা হয়নি।

কিউইদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের জয় মাত্র চারটিই। সব মিলিয়ে জয়ের দৌড়ে বেশ এগিয়ে কিউইরা। ২০ ম্যাচের ১৫টিতেই জিতেছে তারা। অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews