হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল (حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ) কুরআনের একটি মহান বাক্য, যা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল)-এর প্রতীক।
কুরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত হলো:
এই আয়াত একজন মুমিনকে শেখায় সব চেষ্টা করার পর চূড়ান্ত ভরসা রাখতে হবে একমাত্র আল্লাহর ওপর। এটি তাওয়াক্কুলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকাশ,
সূরা আলে ইমরানের ১৭৩ নম্বর আয়াতে দেখা যায়, শত্রুর ভয় দেখানো সত্ত্বেও সাহাবিরা এই বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন। ফলে তাঁদের ঈমান আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল এবং আল্লাহ তাঁদের নিরাপত্তা দান করেছিলেন,
এই আয়াত পাঠের মাধ্যমে মানুষ মনে করিয়ে দেয় যে জীবনের সব বিষয় আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। এই বিশ্বাস হৃদয়ে প্রশান্তি ও ধৈর্য সৃষ্টি করতে সাহায্য করে।
নবী ইবরাহিম (আ.)-এর অগ্নিকুণ্ডের ঘটনা এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের বিভিন্ন ঘটনায় এই বাক্য আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার প্রতীক হিসেবে এসেছে। তাই কঠিন সময়ে এটি একজন মুমিনকে আল্লাহর সাহায্যের আশায় দৃঢ় রাখে।
ইসলামে তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়; বরং নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পর ফলাফল আল্লাহর হাতে সোপর্দ করা। এই আয়াত সেই ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা দেয়।
অনেকেই এই দোয়া নির্দিষ্ট সংখ্যায় পড়ার কথা প্রচার করেন। তবে কুরআন বা সহিহ হাদিসে “হাসবুনাল্লাহু ওয়া নি’মাল ওয়াকিল” নির্দিষ্ট সংখ্যায় পাঠ করার কোনো নির্দেশনা নেই। তাই সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আন্তরিকতা, আল্লাহর প্রতি অটল বিশ্বাস এবং তাঁর ওপর পূর্ণ নির্ভরতা। দুশ্চিন্তা, ভয়, অন্যায়ের শিকার হওয়া কিংবা জীবনের কঠিন কোনো সিদ্ধান্তের সময় এই আয়াত পাঠ করা একজন মুমিনের হৃদয়কে প্রশান্ত করে এবং আল্লাহর প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে।
আজকের প্রতিযোগিতাপূর্ণ ও ব্যস্ত জীবনে মানুষ নানাভাবে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটায়। এমন বাস্তবতায় কুরআনের এই মহান আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ শেষ পর্যন্ত আল্লাহর হাতেই। তাই যখনই মনে হবে সব পথ বন্ধ হয়ে গেছে, তখন নিরাশ না হয়ে বিশ্বাসের সঙ্গে উচ্চারণ করা যেতে পারে “حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ”।
কারণ একজন মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এই বিশ্বাস আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক।