গ্ৰুপ ফটো হোক বা একাকি কোন ছবি, নিজেকে ছবিতে দেখতে ভালো না লাগলে সবারই মন খারাপ হয়। সবাই চায় ছবিতে তাকে সুন্দর লাগুক। মন মতো ছবি হয়না বলে অনেকেই আবার ছবি তোলাই বন্ধ করে দেন।
অনেকে ভাবেন - সে দেখতে সুন্দর না তাই হয়তো ভালো ছবি উঠে না। কিন্তু ছবি দেখতে ভালো হয়নি, এর মানে এই নয় যে আপনি দেখতে খারাপ। ছবিতে সুন্দর লাগা নির্ভর করে আপনি নিজেকে কীভাবে ক্যামেরায় সামনে উপস্থিত করছেন – তার ওপর।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কীভাবে নিজেকে ফটোজেনিক করে তুলব। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক কয়েকটি কৌশল -
ফটোজেনিক হওয়ার অন্যতম একটি প্রধান শর্ত হলো সঠিক পোজ নিতে জানা। সব ধরনের পোজ সবাইকে মানায় না। মূলত নিজের জন্য সঠিক পোজ না জানার কারণেই বেশিরভাগ সময় ছবি ভালো হয় না। শেষ পর্যন্ত আমরা অনেক সময় ফটোগ্রাফার কিংবা ক্যামেরার দোষ খুঁজে বেড়াই। তাই ছবি ভালো হওয়ার জন্য সঠিকভাবে পোজ দিতে জানা খুবই জরুরি।
নিজের ছবির সঠিক পোজ দিতে খুঁজে বের করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো আয়না। তাই নিজেকে ফটোজেনিক করে তুলতে আপনার উচিত একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সঠিক পোজ খুঁজে বের করা।
খুঁজে বের করুন কোন ভঙ্গিতে আপনি সবচেয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কোন পোজটি আপনার কাছে সবচেয়ে স্বাভাবিক লাগে। কারণ, একান্ত ব্যক্তিগত পরিবেশে যদি কোনো পোজ অস্বস্তিকর মনে হয়, তাহলে ক্যামেরার সামনে সেটা আরও বেশি অস্বস্তিকর লাগবে।
আপনার শরীর সোজাভাবে নাকি সামান্য কৌনিকভাবে রাখলে বেশি স্বাভাবিক লাগে এসব বিষয় ভালোভাবে খেয়াল করুন। দেখবেন, সামান্য ভঙ্গি বদলালেই আপনার শরীরের গড়ন ও পুরো লুক কতটা আলাদা দেখাচ্ছে।

আমাদের সবারই মুখ ও শরীরের কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, যেগুলো আমরা সবচেয়ে বেশি পছন্দ করি। সেগুলোকে সুন্দরভাবে তুলে ধরতে পারলে আপনি ক্যামেরার সামনে আরও স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন, এতে আপনাকে বেশি ফটোজেনিক এবং আত্মবিশ্বাসী দেখাবে।
বাস্তবে শরীরের কোনো বৈশিষ্ট্যকে পুরোপুরি ‘লুকানো’ সম্ভব নয়। বিশেষ করে সামনের দিক থেকে তোলা ছবিতে। তবে আপনার পছন্দের বৈশিষ্ট্যগুলোকে হাইলাইট করলে, স্বাভাবিকভাবেই দর্শকের চোখ সেদিকেই বেশি যাবে। এই কাজটি করা যায় সঠিক স্টাইলিং ও অ্যাঙ্গেল ব্যবহার করে।
প্রথমে নিজের মুখ ও শরীরের যেসব অংশ আপনি সবচেয়ে পছন্দ করেন, সেগুলো চিহ্নিত করুন। চাইলে কাছের মানুষদের মতামতও নিতে পারেন। হতে পারে আপনার চোখ, ঠোঁট, চুল কিংবা পা - একাধিক বৈশিষ্ট্যই আপনার প্রিয়। এক্ষেত্রে চোখ সুন্দর হলে চোখের রঙের সঙ্গে মানানসই আইশ্যাডো, ঠোঁট পছন্দ হলে গাঢ় বা উজ্জ্বল লিপস্টিক, চুল বা গলার দিকে নজর আনতে রঙিন স্কার্ফ বা হেডব্যান্ড ব্যবহার করতে পারেন।
ছোটখাট স্টাইলিংই পারে আপনাকে আরও ফটোজেনিক করে তুলতে। পাশাপাশি ছবি তোলার সময় ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের দিকে খেয়াল রাখবেন। কারণ ছবি সুন্দর হওয়ার পেছনে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেলের ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যদি আপনার চোখ খুব সুন্দর হয় কিন্তু চোয়ালের অংশ নিয়ে একটু অস্বস্তি থাকে, তাহলে সামান্য ওপর থেকে সেলফি তুললে চোখ বড় দেখাবে এবং মুখ আরও স্লিম লাগবে।
ছবি তোলার সময় মুখ ও চোয়াল নমনীয় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের মুখভঙ্গিই সম্পূর্ণ ছবিকে প্রতিনিধিত্ব করে। আপনি যদি চোয়ালের দাঁতের ওপর দাঁত রেখে না হেসে ছবি তোলেন অবশ্যই তা কখনো ভালো ছবি হবে না। একারণে ছবি তোলার সময় চোয়ালে কোনো প্রকার শক্তভাব না এনে মৃদু হেসে ছবি তুলবেন। এমনভাবে মৃদু হাসবেন যা দেখমে কৃত্রিম না লাগে।

কোথাও ঘুরতে গিয়ে, বিভিন্ন উৎসব-অনুষ্ঠান বা কোনো ইভেন্টেই মূলত আমরা বেশি ছবি তুলে থাকি। তাই ভালো ছবি প্রত্যাশা করার জন্য অবশ্যই আপনাকে মানানসই পোশাক বাছাই করতে হবে।
ফটোজেনিক দেখাতে হলে এমন পোশাক ও মেকআপ পরুন, যেগুলো আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে এবং যেখানে আপনি স্বাভাবিক ও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। এতে আপনি ছবি তোলার ক্ষেত্রে হয়ে উঠবেন আত্মবিশ্বাসী। মূলত আত্মবিশ্বাসই আসলে সুন্দর ছবির সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। মেকআপের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করবেন। আপনার ত্বকের সঙ্গে মানানসই মেকআপ ও আই স্যাডো বাছাই করুন। যা ফটোজেনিক হওয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যত সুন্দর ভঙ্গিতেই ছবি তুলুন না কেন, আলো ও ব্যাকগ্রাউন্ড ঠিক না হলে ছবি দেখতে সুন্দর হবে না। ভুল জায়গায় দাঁড়ালে আলো মুখে অস্বস্তিকর ছায়া ফেলে, কখনো আবার তীব্র আলো মুখের ওপর সরাসরি পড়ে ত্বককে ফ্যাকাশে করে দিতে পারে। এতে আপনার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ঢেকে যায় এবং ছবির মানও কমে যায়।
পেশাদার ফটোগ্রাফাররা সাধারণত পরিষ্কার ও নিরপেক্ষ ব্যাকগ্রাউন্ড পছন্দ করেন, কারণ এতে ছবি বেশি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। তবে এর মানে এই নয় যে সব সময় সাদামাটা দেয়ালের সামনেই ছবি তুলতে হবে। বরং ব্যাকগ্রাউন্ডে একটু ভিন্নতা ও আকর্ষণ থাকলে ছবিতে আলাদা মাত্রা যোগ হয়।
সুন্দর কোনো শিল্পকর্ম, প্রকৃতির দৃশ্য - যেমন সমুদ্র, ফুল বা গাছপালা অথবা একটি আকর্ষণীয় রাস্তা, ভবন কিংবা কোনো বিশেষ জায়গা - ছবিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে।
তাই আলো ঠিক রাখা ফোটোজেনিক হওয়ার একটি অবমূল্যায়িত কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। এজন্যই সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা রিং লাইট ব্যবহার করেন এবং ফটোগ্রাফাররা ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ (সূর্য ওঠা বা ডোবার সময়) ছবি তুলতে ভালোবাসেন।
তাই ছবি তোলার সময় ঠিক মাথার ওপর আলো, বিশেষ করে দুপুরের কড়া রোদ - এড়িয়ে চলাই ভালো। এই ধরনের আলো মুখের বৈশিষ্ট্যগুলোকে কঠোরভাবে তুলে ধরে এবং রোদে ভ্রু-চোখ কুঁচকে যায়।
তাই ভালো ছবি পেতে আলোর একটু পাশ থেকে বা কোণ করে দাঁড়িয়ে ছবি তুলুন। আলো কোথা থেকে আসছে, কতটা উজ্জ্বল - এসব বিবেচনা করে ছবি তুলুন। দেখবেন, আলোর স্থান বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার মুখ ও শরীরের গঠন আরও সুন্দরভাবে ফুটে উঠছে। সঠিক আলো ও উপযুক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড মিললেই একটি সাধারণ ছবিও হয়ে উঠতে পারে অসাধারণ।
সূত্র: পোর্ট্রেট প্যাল
সানজানা রহমান যুথী/এএমপি/জেআইএম