জুলাই সনদের বিপক্ষে গেলে সরকার পরিচালনার অধিকার জনগণ কেড়ে নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের কার্যালয়ে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা (এমপি) সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে জনগণের ম্যান্ডেটকে অবমাননা করেছেন। চব্বিশের জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে জুলাই সনদের বিপক্ষে তাদের অবস্থান অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। জুলাই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ তাদের উল্টো যাত্রা কখনো মেনে নেবে না। প্রয়োজনে জুলাই শহীদদের রক্ত ঋণ শোধ করতে আন্দোলনে নামবে এবং সরকার পরিচালনার অধিকার কেড়ে নিতে বাধ্য হবে।
তিনি বলেন, বিএনপিকে ডকট্রিন অব নেসেসিটি (প্রয়োজনীয়তার নীতি) বুঝতে হবে, ইতিহাস থেকে পাঠ নিতেই হবে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন ছিল ডকট্রিন অব নেসেসিটি। তার পরিণতি হয়েছিল ১৯৫৬ সালে প্রণীত পাকিস্তানের প্রথম সংবিধানের ২১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি, যা ১৯৬২ সালের সংবিধানেও বহাল ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের ম্যান্ডেট মেনে না নেওয়ার পরিণতি ছিল নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ।
জামায়াত নেতা নজরুল আরও বলেন, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল শহীদ জিয়াউর রহমান নিজেকে প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা করলেন। এটা কোন সংবিধানে লেখা ছিল? নিজেকে প্রেসিডেন্ট ঘোষণার পর ১৯৭৭ সালের ৩০ মে তিনি গণভোট দিলেন। তখন গণভোটের কথা কি সংবিধানে ছিল? না মোটেই ছিল না। গণভোটে তিনি জনতার ম্যান্ডেট পেলেন। মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দায়িত্ব গ্রহণকে সানন্দে গ্রহণ করলেন এবং গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত করলেন। এটাই তো ডকট্রিন অব নেসেসিটি।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় যুগের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবও ছিল ডকট্রিন অব নেসেসিটি। এর কোনো বিকল্প ছিল না। ছাত্রজনতার সফল অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা বানানোটাও ডকট্রিন অব নেসেসিটি। সুতরাং সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই বিপ্লবে গঠিত সরকারের সংস্কার প্রস্তাব বা জুলাই সনদকে অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কাজেই, বাস্তবতা মেনে নিন। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নিন।
জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ও ১১ দলের চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক মুহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মাওলানা এমদাদুল্লাহ সোহাইল, খেলাফত মজলিসের সভাপতি অধ্যাপক খোরশেদ আলম, এলডিপি চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী, এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরীর যুগ্ম সমন্বয়ক মীর মুহাম্মদ শোয়াইব, এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট গোলাম ফারুক, নেজামে ইসলাম পার্টির মহানগরীর সহ-সভাপতি মাওলানা মুবিনুল হক, খেলাফত আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি আতিক বিন ওসমান, লেবার পার্টির মহানগরীর সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান, সেক্রেটারি আফসার উদ্দীন, নেজাম ইসলাম পার্টির মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা আনোয়ার হোসেন রব্বানী, এবি পার্টির সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, বিডিপির মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ জুবায়ের মাহমুদ, মহানগরী জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. একেএম ফজলুল হক প্রমুখ।
এমআরএএইচ/এমএমকে