চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির জন্য বিশ্বকাপ মানেই গৌরবের মঞ্চ। ‘আজ্জুরি’ নামে পরিচিত দলটি দীর্ঘদিন বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের শক্ত অবস্থান ধরে রাখলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই ধারাবাহিকতায় ভাটা পড়েছে।
টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ার হতাশা এখন স্পষ্ট ইতালিজুড়ে। প্লে অফে নিজেদের শেষ ম্যাচে বসনিয়া হার্জেগোভিনার কাছে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন প্রায় শেষ হয়ে যায় তাদের।
তবে ফুটবলের অনিশ্চয়তার মাঝেই হঠাৎ নতুন এক সম্ভাবনার আলো দেখছে ইতালি। যদিও সেটি এখনো অনেকটাই ক্ষীণ।
এই সম্ভাবনার সূত্রপাত মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে। ইরান জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী চলমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে অনাগ্রহের কথাও জানিয়েছেন।
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই ইরান বিশ্বকাপে অংশ নেবে এবং তাদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রেই অনুষ্ঠিত হবে।
এই দ্বিধার মধ্যেই সামনে এসেছে ফিফার একটি নিয়ম। সংস্থাটির নীতিমালার ৬ দশমিক ২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো দল বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় বিকল্প দল নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে অফের রানারআপ বা একই অঞ্চলের সর্বোচ্চ র্যাংকিংধারী দলকে সুযোগ দেওয়া হয়।
এই হিসেবে ইরান না খেললে এশিয়া অঞ্চল থেকে এগিয়ে থাকবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে অফে জায়গা করে নিয়েছিল।
তবে এখানেই আলোচনায় এসেছে ইতালির নাম। ফিফা যদি নিজস্ব বিবেচনায় বিশ্ব র্যাংকিংকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে সুযোগ পেতে পারে ইতালি।
ইরাক জাতীয় দলের সহকারী কোচ রেনে মিউলেনস্টিন বলেন, এএফসির হিসাবে ইরানের জায়গায় ইরাকের যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর তাদের জায়গা পূরণে সংযুক্ত আরব আমিরাত অন্য প্লে অফ ম্যাচে খেলতে পারে।
একইসঙ্গে তিনি বলেন, ফিফা চাইলে সর্বোচ্চ র্যাংকিংয়ে থাকা কোনো দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারে, যেখানে ইতালির নাম সামনে আসছে।
তবে বাস্তবতা বলছে, এমন সিদ্ধান্ত সহজ নয়। ইতালিকে সুযোগ দিলে ইউরোপ থেকে অতিরিক্ত একটি দল বিশ্বকাপে জায়গা পাবে, যা অন্য অঞ্চলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে ইতালির বিশ্বকাপ খেলা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ কোনো পরিবর্তন না হলে তাদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। এখন সবার নজর ফিফার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।
বিডি প্রতিদিন/আশিক