শেষ এক বছর ধরে ভারত-পাকিস্তানের শীতল সম্পর্কটা চরমে গিয়ে পৌঁছেছে। মূলত কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে হামলার পর থেকে দুই দেশের ক্রিকেটাররাও হাত মেলানোর রীতিতে বাধ সাধেন। সেই ধারা ভেঙে পাকিস্তানের ফাতিমা সানাকে জড়িয়ে ধরলেন জেমাইমা রদ্রিগেজ।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যে দৃশ্য একরকম নিয়মে পরিণত হয়ে গিয়েছিল, তাতে হঠাৎই পরিবর্তন এল। ভারত ও পাকিস্তানের দুই মহিলা ক্রিকেটার শুধু হাত মেলাননি, একে অপরকে জড়িয়েও ধরেছেন। আর এই দৃশ্যই জন্ম দিয়েছে নতুন বিতর্কের।
ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে। সাদার্ন ব্রেভ দলের হয়ে খেলেন ভারতের জেমাইমা রদ্রিগেজ, আর পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা খেলেন বার্মিংহ্যাম ফিনিক্সের হয়ে। দুই দলের মধ্যকার ম্যাচ শেষে যখন সব খেলোয়াড় একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করছিলেন, তখন প্রশ্ন উঠেছিল—জেমাইমা ও ফাতিমা কি হাত মেলাবেন?
এই মুহূর্তের একটি ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যায়, ফাতিমার দিকে এগিয়ে যান জেমাইমা, প্রথমে হাত মেলান, এরপর দু’জনে জড়িয়ে ধরেন একে অপরকে। দু’জনের মুখেই ছিল হাসি, কথাও বলেন কিছুক্ষণ। এরপর যে যার সাজঘরের দিকে চলে যান।
২০২৫ সালে কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হামলা এবং তার পরবর্তী ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে চরম তিক্ততা তৈরি হয়। সেই সময় থেকেই এশিয়া কাপে সূর্যকুমার যাদবদের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত মেলানো বন্ধ করে দেয়। এরপর পুরুষ, মহিলা কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯—সব স্তরের ক্রিকেটেই এই প্রবণতা বজায় ছিল, এমনকি অন্যান্য খেলাতেও তার প্রভাব দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার দেখা গেল একেবারে ভিন্ন চিত্র।
স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। একদল মনে করছেন, জেমাইমার এই আচরণ ঠিক হয়নি; দেশের অন্য ক্রিকেটারেরা যে অবস্থান বজায় রেখেছেন, তারও তা মেনে চলা উচিত ছিল, এমনকি কেউ কেউ শাস্তিরও দাবি তুলেছেন।
আবার অন্য একটি অংশের বক্তব্য, জেমাইমা প্রকৃত ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এবং খেলার মধ্যে রাজনীতি টেনে আনা উচিত নয়। তাদের মতে, জাতীয় দলের জার্সি গায়ে যা সম্ভব হয়নি, বিদেশের লিগে সেটাই করে দেখিয়েছেন এই ভারতীয় ক্রিকেটার। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না।