প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আমাদের আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর সেই যুদ্ধটি হলো জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা।
গতকাল রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের চাঙা করতে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির পক্ষ থেকে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এ মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমরা দেশের মানুষকে সুশাসন দেওয়ার কথা বলেছিলাম। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার জন্য চমৎকার পরিবেশ পাবে এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ রাস্তায় নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারবে। সকাল পৌনে ১১টায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা শুরু হয়ে দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি এয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরে দলের মাঠপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এটি প্রথম মতবিনিময় সভা।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যখন বিএনপি নেতা-কর্মীরা অবর্ণনীয় নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হচ্ছিলেন, তখনো বিএনপি চেয়েছিল দেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হোক যেখানে সুস্থ তর্কবিতর্ক থাকবে এবং মানুষের কথা বলার অবারিত সুযোগ থাকবে। আমরা সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই। গত ১২ তারিখের নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি আগেই বলেছিলাম নির্বাচনটি অনেক কঠিন হবে এবং আপনারা প্রতিটি মুহূর্তে তা অনুভব করেছেন। দেশের মানুষ আমাদের দলের ওপর আস্থা রেখেছে এবং আমাদের ইশতেহারের পক্ষে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছে। তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগ পর্যন্ত এটি ছিল কেবল জাতীয়তাবাদী দলের ইশতেহার। আমরা সরকার গঠনের পর এটি এখন পুরো দেশের জনগণের ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। কারণ ৫২ শতাংশ মানুষ সরাসরি আমাদের ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই আমাদের এখন সর্বোচ্চ শ্রম ও আন্তরিকতা দিয়ে এই ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়লেন প্রধানমন্ত্রী : বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণ ওয়াকিমুল ইসলামের বানানো ‘স্মার্ট কারে’ চড়ে তাকে উৎসাহ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ওয়াকিমুল। এ সময় তার বানানো ছোট ওই বাহন দেখেন তারেক রহমান। পরে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে স্মার্ট কারটি চালিয়ে দেখান ওয়াকিমুল। ব্যাটারিচালিত বিশেষ এ যানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এ টু আই স্মার্ট কার’।
দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ বাহন তৈরি করায় ১৭ বছরের তরুণের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি কম খরচে আরও আধুনিক ও সহজে ব্যবহারযোগ্য স্মার্ট কার তৈরির পরামর্শও দেন। এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগে সরকারের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী। ওয়াকিমুল যশোরের চৌগাছা সরকারি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে পড়েন। তিনি জানান, সহযোগিতা পেলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও উন্নতমানের স্মার্ট কার বানানো সম্ভব। এটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছাড়া বয়স্ক ব্যক্তিরাও ব্যবহার করতে পারবেন। গাড়িটি বৈদ্যুতিক চার্জে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ গতি ৪৫ কিলোমিটার। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন- তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মব সহিংসতা-মাদক বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর হতে হবে : মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং ও মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান। রবিবার বাংলাদেশ পুলিশের সবচেয়ে বড় আয়োজন পুলিশ সপ্তাহ শুরু হচ্ছে। এতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরেবাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।