ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে তৈরি করা ভিডিও প্রকাশের জেরে ইরানপন্থী একটি ইউটিউব চ্যানেল সরিয়ে দিয়েছে গুগল। লেগো থিমের অ্যানিমেশন দিয়ে তৈরি এসব কনটেন্ট ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউটিউবের মালিক প্রতিষ্ঠান গুগল চ্যানেলটি তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। ইউটিউবের এক মুখপাত্র জানান, পর্যালোচনার পর স্প্যাম, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং স্ক্যাম সংক্রান্ত নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে চ্যানেলটি বন্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইউটিউব এমন কোনো কনটেন্ট সমর্থন করে না যা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত বা প্রতারিত করে।
এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া নামের ওই চ্যানেলটির বেশিরভাগ কনটেন্ট ছিল অ্যানিমেশনভিত্তিক, যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ প্রচেষ্টা উপহাস করা হতো এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করা হতো। যদিও ইউটিউব সুনির্দিষ্টভাবে জানায়নি, ঠিক কোন কারণে নীতিমালা লঙ্ঘন হয়েছে।
এর আগে চ্যানেলটিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস, আইআরজিসি এর অনুসারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প সামরিক কর্মকর্তাদের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারছেন, অন্যদিকে ইরানি জেনারেলরা একটি বোতাম চাপছেন, যেখানে লেখা ছিল প্রস্তর যুগে প্রত্যাবর্তন। এটি পিট হেগসেথের একটি হুমকির প্রতিক্রিয়া হিসেবে তৈরি করা হয়।
আরেকটি ভিডিওতে ট্রাম্পকে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়, যেখানে তিনি নিজেকে পরাজিত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন। এছাড়া কিছু কনটেন্টে শিয়া ইসলামি ঐতিহ্যের উল্লেখ ছিল, যার মধ্যে হোসেন ইবনে আলীর চিত্রায়নও রয়েছে।
চ্যানেলটি সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়া। তারা দাবি করেছে, তাদের কনটেন্টকে অযৌক্তিকভাবে হিংসাত্মক হিসেবে দেখিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারা প্রশ্ন তোলে, তাদের লেগো স্টাইলের অ্যানিমেশন কীভাবে বাস্তবিক অর্থে সহিংস হতে পারে।
ফারসি ভাষায় আখবার এনফেজারি নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি ইরান সরকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে। তবে তাদের ভিডিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।
চ্যানেলটি সরানোর আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নানা ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হয়, যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং বিতর্কিত বিষয়গুলোও উঠে আসে। এর আগের কিছু ভিডিওতে আদিবাসী আমেরিকান, ভিয়েতনামী, গাজা, হিরোশিমা ও নাগাসাকির প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছিল।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল, ইরান এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচারমাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের পক্ষ থেকেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হচ্ছে, যা রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে।
নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত থাকায় এসব কনটেন্টের বড় অংশ দেশটির সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। যদিও কিছু ব্যবহারকারী বিকল্প প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সীমাবদ্ধতা এড়িয়ে যাচ্ছেন।
বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক্সপ্লোসিভ মিডিয়ার প্রধান, মিস্টার এক্সপ্লোসিভ বলেন, তাদের দলে ১০ জনেরও কম সদস্য রয়েছে এবং ইরান সরকার তাদের একজন গ্রাহক।
সূত্রঃ মিডল ইস্ট আই
বিডি প্রতিদিন/আশিক