বর্তমানে শিশুদের মধ্যে ‘রুবেলা’ ভাইরাসের সংক্রমণ বা হামের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এটি একটি অতিসংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশির মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সঠিক সময়ে টিকা না দেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে অনেক শিশু জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এরই মধ্যে ঢাকায় একাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। হাসপাতালের শয্যা ছাড়িয়ে মেঝে, করিডর পর্যন্ত পৌঁছেছে হামের রোগী। রোগী সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। 

গত শনিবার হামে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহীতে তিন শিশু এবং ময়মনসিংহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। 

সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, দেশে হামের সংক্রমণ এখন শুধু নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই। রাজশাহী, খুলনাসহ প্রায় সারা দেশেই এটি ছড়িয়ে পড়ছে। সাধারণত বসন্তকালে শুরু হওয়া এ ধরনের সংক্রমণ প্রায় দুই মাস স্থায়ী হতে পারে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি। হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঠিক তথ্য এখনো তাদের কাছে নেই। 

তিনি আরও জানান, সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, নয় মাসের কম বয়সী শিশুদের মধ্যেই এখন বেশি সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। অথচ এই বয়সে তাদের টিকা নেওয়ার কথা নয়। অর্থাৎ টিকা পাওয়ার আগেই তারা আক্রান্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘আউটব্রেক রেসপন্স’ হিসেবে আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে ব্যাপক টিকা কর্মসূচি চালানো হতে পারে। এমনকি আগে টিকা নেওয়া শিশুদেরও অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হতে পারে। টিকা না নেওয়া শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই অভিভাবকদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

হামে আক্রান্ত হলে সাধারণত শিশুর শরীরে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয় :

তীব্র জ্বর ও কাশি : নাক দিয়ে পানি পড়া ও চোখ লাল হয়ে যাওয়া। জ্বরের চার দিনের মাথায় মুখ থেকে শুরু করে সারা শরীরে লালচে র‌্যাশ বা দানা ওঠা। এগুলো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

কেন এটি বিপজ্জনক?

হাম শুধু একটি সাধারণ জ্বর নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। এর ফলে দেখা দিতে পারে নানা জটিলতা :

১। শারীরিক জটিলতা : কিছু জটিলতা হয় যেমন : নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কানপাকা ও মুখে ঘা।

২। দৃষ্টিশক্তি হারানো : শরীরে ভিটামিন এ-র অভাব দেখা দেয়, যা থেকে রাতকানা এমনকি অন্ধত্ব হতে পারে।

৩। মস্তিষ্কের ক্ষতি : এ সময় অনেকের কিছু কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা মারাত্মক অপুষ্টি দেখা দিতে পারে।

টিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি

বাংলাদেশে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ ‘এমআর’ (মিজলস রুবেলা) টিকা দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৮৮ শতাংশ শিশু এই টিকা নিয়েছে। তবে যারা এখনো টিকা পায়নি বা শুধু এক ডোজ নিয়েছে, তাদের আক্রান্ত হওয়ার এবং অন্যদের মধ্যে রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। 

অভিভাবকদের করণীয়

শিশুর জ্বর বা র‌্যাশ দেখা দিলে অন্তত ৫ দিন শিশুকে অন্যদের কাছ থেকে আলাদা রাখুন। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান এবং পরামর্শ অনুযায়ী উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান। শ্বাসকষ্ট, বারবার বমি, খিঁচুনি বা চোখের মণি ঘোলা হয়ে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে। 



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews