বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা ও দেশের খাদ্য ঘাটতি পূরণে খাল খনন কর্মসূচির কোনো বিকল্প নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত এই কৃষিবান্ধব কর্মসূচি সেচ ব্যবস্থায় ব্যাপক সুফল বয়ে এনেছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশে খাদ্য উৎপাদনে বিপ্লব ঘটবে এবং কৃষক পরিবারে সচ্ছলতা ফিরে আসবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের লক্ষণখোলায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, তারেক রহমান নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ‘দেশব্যাপী নদী-নালা-খাল, জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচি প্রবর্তন করেন। এটি একটি কৃষি ও জনবান্ধব প্রকল্প। তিনি (জিয়াউর রহমান) স্থানীয় জনগণকে সরাসরি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি চালু করেছিলেন। সফল রাষ্ট্রনায়ক শহীদ জিয়ার সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকার গঠনের স্বল্প সময়ের মধ্যে খাল খনন কর্মসূচি, দুস্থ পরিবারে সচ্ছলতা দিতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের কল্যাণে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি চালুসহ অনেক জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এমন গণমুখী উদ্যোগ দেখে দেশের মানুষ খুবই উচ্ছ্বসিত ও আশাবাদী হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের দুঃশাসনে নিষ্পেষিত জাতির অগ্রপথিক হয়ে তিনি রাষ্ট্রের হাল ধরেছেন। ইনশাআল্লাহ, তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে দ্রুতই বাংলাদেশ উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, খাল খনন কর্মসূচির ফলে কৃষিকাজে সেচ ব্যবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে অবশ্যই ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও পানির সমস্যা সমাধান হবে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ড. মারুফ বলেন, মেঘনায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, বালুখেকো, মাদক ব্যবসাসহ নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে মানুষ অতিষ্ঠ, বিরক্ত। এগুলো আর চলতে দেওয়া যায় না। এসব সামাজিক ব্যাধি দমন করতে বর্তমান সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ রক্ষা পাবে না।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সততার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকে রাজনীতি করার জন্য ড. খন্দকার মারুফ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
মেঘনা উপজেলার ইউএনও মৌসুমী আক্তারের সভাপতিত্বে খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফখরুদ্দিন রাজি।
এর আগে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন মেঘনা উপজেলার লুটেরচর মফিজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়, মানিকারচর শাহেরা লতিফ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও মুগারচর কেরামত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা এবং বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপি নেতা মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, এমএম মিজানুর রহমান, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন, কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ভিপি শাহাবুদ্দিন ভুইয়া, মেঘনা উপজেলা যুব দলের আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান ভুইয়া, মেঘনা উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি মাহবুবা ইসলাম মিলি, সাংগঠনিক সম্পাদক লিপি আক্তার মেম্বার ও ছাত্রদলের সভাপতি সোলায়মান হোসেন প্রমুখ।