আজ ২১ মে আন্তর্জাতিক চা দিবস। বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হলেও বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের জীবনে এখনো রয়ে গেছে দারিদ্র্য, বঞ্চনা আর অনিশ্চয়তা। একদিকে চায়ের কাপে আভিজাত্য, অন্যদিকে সেই চায়ের পাতা তুলতে জীবন কাটছে হাজারো শ্রমিকের কষ্টে।
জাতিসংঘ ২০১৯ সালে ২১ মে-কে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এরপর থেকে প্রতি বছর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে চা বোর্ড।
এবার চা-পাতা চয়নকারী প্রতিযোগিতা-২০২৫-এ দেশসেরা চা-পাতা উত্তোলনকারী নির্বাচিত হয়েছেন চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগানের শ্রমিক জেসমিন আক্তার। টানা তৃতীয়বারের মতো এই স্বীকৃতি পেলেন তিনি। মাত্র ৩০ মিনিটে ১৩ কেজি চা-পাতা তুলে সবাইকে পেছনে ফেলেছেন জেসমিন।
৪৩ বছর ধরে চা-বাগানে কাজ করা জেসমিন গণমাধ্যমকে বলেন, সংসারের অভাব দূর করতেই নববধূ অবস্থায় চা-বাগানে কাজ শুরু করেছিলেন। এখন তার এই অর্জনে খুশি পরিবারও।
তবে একদিকে পুরস্কার ও সম্মাননা থাকলেও, অন্যদিকে দেশের বেশিরভাগ চা শ্রমিকের জীবন এখনো কষ্টে ভরা। দৈনিক মাত্র ১৮৭ টাকা ৪০ পয়সা মজুরিতে পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। অনেক বাগানে নিয়মিত বেতনও পাচ্ছেন না শ্রমিকরা।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাতে চা শ্রমিকদের অভিযোগ, এখনো অনেক পরিবার জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছে। বিশুদ্ধ পানি, ভালো চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত তারা।
চা শ্রমিক নেতারা বলছেন, শুধু দিবস পালন নয়, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তাদের দাবি, সম্মানজনক মজুরি, নিরাপদ বাসস্থান ও বকেয়া পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
চা শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সেই শিল্পের মূল কারিগরদের জীবন এখনো কষ্ট আর অবহেলায় আটকে আছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, ঊনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসনামলে সিলেট ও আসামে চা শিল্পের যাত্রা শুরু হয়। স্থানীয় শ্রমিক না পাওয়ায় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শ্রমিক এনে চা বাগানে কাজ করানো হয়।
অমানবিক জীবন ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১৯২১ সালের ২১ মে চা শ্রমিকদের ঐতিহাসিক আন্দোলন দমন করা হয়, যেখানে হাজারো শ্রমিক নিহত হন। বর্তমানে আন্তর্জাতিক চা দিবস হিসেবে এই দিনটি পালিত হলেও চা শ্রমিকরা এখনো ন্যায্য মজুরি ও জীবনমান উন্নয়নের দাবিতে সংগ্রাম করছেন।