চাঁদের মাটি ও পাথর থেকে প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছেন নাসার গবেষকেরা। তারা এমন একটি নতুন উপাদান আবিষ্কার করেছেন, যা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে এবং গলিত চাঁদের ধুলার ক্ষয় প্রতিরোধে সক্ষম। ভবিষ্যতে এটি চাঁদে স্থাপনা নির্মাণ ও মানব অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নাসা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদের মাটি ও পাথর থেকে ধাতু ও অক্সিজেন সংগ্রহের উপায় নিয়ে কাজ করছে। এসব উপাদান ভবিষ্যতে নির্মাণকাজ, জ্বালানি এবং জীবনধারণ-সহায়ক ব্যবস্থায় ব্যবহার করা হতে পারে। এই গবেষণার অংশ হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গ্লেন গবেষণা কেন্দ্রে নতুন উপাদানটির সন্ধান পাওয়া যায়।
গবেষণায় ড. কেভিন ইউ এবং ড. জেমেসা স্টোকস গলিত চাঁদের ধুলার সঙ্গে বিভিন্ন পদার্থের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করছিলেন। প্রায় ছয় মাস পর তারা লক্ষ্য করেন, কৃত্রিম চাঁদের ধুলার সঙ্গে স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড নামের একটি যৌগ মিশিয়ে উচ্চ তাপে উত্তপ্ত করলে সম্পূর্ণ নতুন একটি উপাদান তৈরি হচ্ছে।
গবেষকেরা বারবার পরীক্ষা করে দেখেন, উপাদানটি তাদের বিশ্লেষণভাণ্ডারে থাকা ১০ লাখের বেশি পরিচিত পদার্থের কোনোটির সঙ্গেই মেলে না। এরপর তারা শুরু থেকে এর রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করেন।
পরীক্ষায় দেখা যায়, নতুন উপাদানটি গলিত চাঁদের ধুলার ক্ষয় প্রতিরোধ করতে পারে এবং চাঁদের পাথর গলানোর জন্য প্রয়োজনীয় চরম তাপমাত্রাও সহ্য করতে সক্ষম। এটি সাধারণ রান্নাঘরের চুলার তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি তাপ সহ্য করতে পারে।
গবেষকদের মতে, ভবিষ্যতে চাঁদের মাটি থেকে সম্পদ আহরণে ব্যবহৃত নল, ধারক বা অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতে এই উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। একই সঙ্গে উড়োজাহাজের ইঞ্জিনের ভেতরের সুরক্ষামূলক আবরণ হিসেবেও এর ব্যবহার সম্ভাবনাময়।
তাদের দাবি, বর্তমানের উন্নত আবরণ উপাদানের তুলনায় এটি হালকা, কম ঘনত্বের এবং তাপ নিরোধে বেশি কার্যকর। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষ হলেও ভবিষ্যতে উপাদানটির বিশুদ্ধতা বাড়ানো ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর জন্য আরও গবেষণা চালানো হবে।
বিডিপ্রতিদিন/কেকে