বিতর্কিত সামরিক আইন বা ‘মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে ২০২৪ সালে জনজীবনে ভোগান্তি সৃষ্টির জন্য ক্ষমা চেয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়োল। রাষ্ট্রদ্রোহের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার একদিন পর শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তিনি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

বৃহস্পতিবার সিউল সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ইউনকে দোষী সাব্যস্ত করে। রায়ে বলা হয়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পার্লামেন্টকে অচল করে দিতে তিনি যে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা ছিল রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

সামরিক শাসন জারির চেষ্টার ফলে জনমনে যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছিল, তা স্বীকার করে নিয়েছেন ইউন। তবে তিনি দাবি করেছেন, এই পদক্ষেপ তিনি ‘সম্পূর্ণভাবে জাতির স্বার্থে’ নিয়েছিলেন।

তার আইনজীবীর মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে ইউন বলেন, ‘দেশকে রক্ষার সংকল্প থাকা সত্ত্বেও আমার অদূরদর্শিতার কারণে জনগণের যে ভোগান্তি ও হতাশা হয়েছে, সেজন্য আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাচ্ছি।’

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়কে ‘মেনে নেয়া কঠিন’ বলে মন্তব্য করলেও ইউন উচ্চ আদালতে আপিল করবেন কি-না, সে বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি। ৬৫ বছর বয়সী সাবেক এই প্রেসিডেন্ট কবে নাগাদ প্যারোলে মুক্তি পাবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দেশটিতে সাধারণত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদিরা ২০ বছর সাজার পর প্যারোলের আবেদন করতে পারেন।

বিচারক জি গুই-ইয়ন তার রায়ে বলেন, ইউন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের কণ্ঠরোধ করতেই পার্লামেন্ট ভবনে সেনা পাঠিয়েছিলেন। ইউন চেয়েছিলেন দীর্ঘ সময়ের জন্য দেশের আইনসভাকে অচল করে দিতে।

২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর মধ্যরাতে টেলিভিশনে এক আকস্মিক ভাষণে ইউন সুক ইয়োল সামরিক আইন জারির ঘোষণা দেন। সে সময় তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রভাব এবং তথাকথিত ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির’ দোহাই দিয়ে বেসামরিক সরকার স্থগিত করার কথা বলেছিলেন। তবে এর ছয় ঘণ্টা পরেই আইনপ্রণেতারা পার্লামেন্ট ভবনে জড়ো হয়ে জরুরি ভোটের মাধ্যমে সেই মার্শাল ল বাতিল করে দেন।

সূত্র: বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews