নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনায় নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের জন্য নতুন ধরনের অ্যাকাউন্ট চালু করেছে মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক মেটা প্ল্যাটফর্ম জানিয়েছে, অভিভাবক-পরিচালিত নতুন এই অ্যাকাউন্ট মূলত ১৩ বছরের কম বয়সি ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা নিরাপদ পরিবেশে যোগাযোগ করতে পারবে। খবর রয়টার্সের।
বুধবার (১১ মার্চ) ব্রাসেলস থেকে প্রকাশিত এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এসব অ্যাকাউন্টে ব্যবহারকারীরা কেবল মেসেজিং ও কলিং সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে। অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতো উন্মুক্ত ফিচার এখানে থাকবে না।
শিশু ও কিশোরদের ওপর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এটির সূচনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া গত বছর মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বিবেচনায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার উদ্যোগ নেয়।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে মেসেজিং অ্যাপগুলোতে হ্যাকিং ও প্রতারণার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা যাচাইকরণ কোড বা পিন সংগ্রহ করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে।
হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, অভিভাবকদের পরামর্শ থেকেই এই নতুন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে। অনেক অভিভাবকই এমন একটি নিরাপদ মেসেজিং সেবা চেয়েছিলেন যেখানে ছোট বয়সি ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম তারা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
যেসব সুবিধা পাওয়া যাবে:
নতুন ব্যবস্থায় কঠোর ডিফল্ট নিরাপত্তা সেটিংস থাকবে। অভিভাবকরা ঠিক করতে পারবেন কারা তাদের সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবে এবং কোন গ্রুপে তারা যুক্ত হতে পারবে। এছাড়া অজানা ব্যক্তির কাছ থেকে আসা মেসেজ অনুরোধ পর্যালোচনা করা এবং গোপনীয়তা সেটিংস নিয়ন্ত্রণের সুযোগও থাকবে অভিভাবকদের হাতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কিশোরদের জন্য নিরাপদ অনলাইন যোগাযোগ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।