শেষ পর্যন্ত সেটি যে হয়নি, তার একটি সম্ভাব্য কারণ বাংলাদেশের নারী ভোটার। এ কথা বলার কারণ রয়েছে। মুখে ও তাদের রাজনৈতিক ইশতেহারে জামায়াত নানাভাবে এ কথা বোঝানোর চেষ্টা করেছে, দেশের মা-বোনদের ইজ্জত একমাত্র তারাই রক্ষা করতে সক্ষম। দলের আমির শফিকুর রহমান বরিশালের এক জনসভায় এমন কথাও বলেছেন, মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি প্রয়োজনে নিজের জীবন দিতেও প্রস্তুত আছেন। পাশাপাশি তিনি এ কথাও বলেছেন, মেয়েরা শিক্ষায়-যোগ্যতায় যত সফল হোক না কেন, তারা কখনোই পুরুষদের ডিঙিয়ে যেতে পারবে না। সব সময় তাদের একজন পুরুষের পেছনে হাঁটতে হবে।
পুরুষ নারীর রক্ষাকর্তা, তার ‘প্রটেক্টর’—এই ধারণা আজকের নয়, হাজার বছরের। কিন্তু সেই পুরুষতন্ত্র অতিক্রম করে মেয়েরা শুধু যে বাইরে বেরিয়ে এসেছে তা-ই নয়, উল্টো অনেক ক্ষেত্রে তারাই পুরুষের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী, সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি, এমনকি দেশের সেনাবাহিনীর কমান্ডার হিসেবে পৃথিবীর অনেক দেশেই দায়িত্ব পালন করেছেন নারী।
জামায়াতের আমির এ কথাও বুঝতে পারেননি যে মেয়েরা কেবল আমাদের মা ও বোন নয়; তারা কেউ কেউ আমাদের সহকর্মী, কেউ আমাদের স্ত্রী, কেউ আমাদের প্রেমিকা। এরা কেউ পুরুষের কাছ থেকে শুধু নিরাপত্তা আশা করে না, তারা সম-অধিকার ও সম-শ্রদ্ধা আশা করে।