ব্যারাজ দ্বারা মূলত পদ্মার বর্ষাকালীন প্রবাহ ধরে রেখে তা শীতকালে ব্যবহার করা হবে, এটা একটা কাহিনি (ইংরেজিতে যাকে বলে মিথ), যার সঙ্গে বাস্তবতার মিল সামান্য। এই বয়ানের মধ্য দিয়ে ব্যারাজের উদ্দেশ্য নিয়ে এক মরীচিকা (ইংরেজিতে মির্যাজ) সৃষ্টি করা হচ্ছে, যা কখনোই অর্জিত হওয়ার নয়।
এই মরীচিকার বিষয়টি প্রস্তাবিত দ্বিতীয় তিস্তা ব্যারাজের জন্যও প্রযোজ্য হবে। এই ব্যারাজের প্রস্তাব একেবারেই নতুন ও আকস্মিক। ডালিয়াতে বাংলাদেশের তিস্তা ব্যারাজ থাকা সত্ত্বেও কেন এই ব্যারাজ নির্মাণ করতে হবে এবং কোথায় তা নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে, তা–ও পরিষ্কার নয়। তবে যদি এটা নির্মিতও হয়, এটারও মূল কাজ হবে নদীপ্রবাহের ভৌগোলিক দিক পরিবর্তন—বর্ষাকাল থেকে শীতকালে পানির লভ্যতার পরিবর্তন নয়।
বস্তুত এই মৌলিক বিষয়টি বোঝার জন্য এত হিসাবের প্রয়োজন হয় না। চোখের সামনেই রয়েছে ভারতের ফারাক্কা ও গজলডোবা ব্যারাজের অভিজ্ঞতা। ব্যারাজ দ্বারা যদি মূলত বর্ষাকালের পানিকে শীতকালে পুনর্বিতরণ করা যেত, তাহলে এসব ব্যারাজের কারণে শীতকালে বাংলাদেশের গঙ্গায় ও তিস্তায় পানি থাকে না কেন?
ডালিয়ায় নির্মিত তিস্তা ব্যারাজের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। ব্যারাজের মূল কাজ যদি হয় বর্ষাকালের পানি শীতকালে ব্যবহার করা, তাহলে ডালিয়া থেকে চিলমারী পর্যন্ত তিস্তা নদীতে শীতকালে পানি থাকে না কেন? কেন তিস্তা আজ সংকটে এবং তিস্তার জন্য ‘মহাপরিকল্পনা’র প্রয়োজন হচ্ছে?