পেশাদার ফুটবল লিগে বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনী আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে। দ্বিতীয় লেগের এ ম্যাচকে অলিখিত ফাইনালই বলা যায়। কিংস তো জিতলেই চ্যাম্পিয়ন, শেষ ম্যাচে হারলেও কিছু যাবে আসবে না। আবাহনী জিতলেই চলবে না, শেষ ম্যাচে আরামবাগের বিপক্ষে জিততে হবে। তবে কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে মূলত আজই শিরোপা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। কেননা শেষ ম্যাচে দুই দলের প্রতিপক্ষ অপেক্ষাকৃত দুর্বল বলেই অঘটন ঘটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যা-ই হোক, কে চ্যাম্পিয়ন হবে তা বড় কথা নয়। ১৯৪৮ সাল থেকে কোনো না কোনো দল চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসছে। কিন্তু এবার লিগ ঘিরে যেসব অভিযোগ শোনা যাচ্ছে তা সত্যিই বিস্ময়ের ব্যাপার। দেশের ফুটবলে বড় আকর্ষণ তো পেশাদার লিগই। এখানেই পারফরম্যান্স যাচাই করে খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে ডাকা হয়। এখানেই যদি নোংরামি হয় তাহলে ফুটবলে কতটা ক্ষতি তা কেউ ভেবে দেখেছেন? যে দলকে ঘিরে অভিযোগ শোনা যাচ্ছে দেশের ফুটবলে তাদের অবদানও ব্যাপক। ঘটনা সত্য কি না জানি না, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অন্যতম জনপ্রিয় ক্লাব ঢাকা আবাহনীকে ঘিরেই ফুটবল অঙ্গনে এ অভিযোগ। যা শোনা যাচ্ছে তা ভীতিকর। ফলাফল দলের অনুকূলে রাখতে নাকি পরিকল্পিতভাবে তা করা হচ্ছে। জাতীয় দলের সাবেক এক ফুটবলার বলেন, ‘সত্যি কি তাই! এসব যদি হয়ে থাকে তাহলে মাঠ কেন, টেবিলেই তো শিরোপা ঠিক করা যেতে পারে। যা শুনছি তা ফুটবলকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ দ্বিতীয় লেগে আবাহনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে-তারা যখন বড় ম্যাচ বা পয়েন্ট হারানোর শঙ্কায় থাকে, তখন সেই দলগুলোর আগের ম্যাচে রেফারির সহায়তায় দলের সেরা খেলোয়াড়দের লাল কার্ড দেখানো হয়। যাতে তাঁরা আবাহনীর বিপক্ষে মাঠে নামতে না পারেন। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে তিনটি অভিযোগ তোলা হয়েছে। যেমন ফর্টিস এফসির পা ওমর বাবু, পিডব্লিউডির জনাথন ও কিংসের রাকিবকে ঘিরে। আগের ম্যাচে তাঁরা লাল কার্ড পাওয়ায় আবাহনীর বিপক্ষে খেলতে পারেননি। যেমন পুলিশের বিপক্ষে হলুদ কার্ড পাওয়ায় রাকিব আজ আবাহনীর বিপক্ষে খেলতে পারবেন না। কেননা তিনি আগের দুই ম্যাচেও হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন।

এসব অভিযোগ নিয়ে দেশের সাবেক নন্দিত ফুটবলার ও আবাহনীর পরিচালক সত্যজিত দাশ রুপুকে ফোন করা হলে তিনি ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাকে কেন প্রশ্ন করছেন, লিগ কমিটি ও রেফারিজ কমিটির সঙ্গে কথা বলেন। এসব আজগুবি অভিযোগ কোথা থেকে পেলেন? মনে রাখবেন আবাহনী আবাহনীই, খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসছে।’ রুপু লিগ কমিটি ও রেফারিজ কমিটির কথা বলেছেন। কিন্তু এখানে দেশের ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা বাফুফে কী করছে? অভিযোগ কি তাদের কানে আসেনি? নাকি কোনো পক্ষকে বাড়তি সুবিধা দিতে নীরব ভূমিকা পালন করছে? রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়। বারবার উঠেছে। এ ব্যাপারে বাফুফে কি কোনো পদক্ষেপ নিতে পেরেছে? এবার কিংস ও পুলিশের ম্যাচে যা ঘটেছে তাকে বিশ্ব ফুটবলেও বিরল বললে ভুল হবে না। ৬৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ছিল। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। এ বিষয়টাকেও বিশ্বরেকর্ড বলা যায়। মারাত্মক ফাউল করার অপরাধে পুলিশের পাওলো হেনরিককে লাল কার্ড দেখানো হয়। স্বাভাবিকভাবেই পুলিশ ১০ জনের দলে পরিণত হয়। লিগের বাইলজে উল্লেখ আছে, তিন বিদেশি ফুটবলার খেলতে পারবেন। এর মধ্যে কেউ যদি লাল কার্ড দেখেন, কোটা তিনেই থাকবে। হেনরিক লাল কার্ড পাওয়ার পর পুলিশের আরও দুই বিদেশি একাদশে ছিলেন। কিন্তু পুলিশ বদলি হিসেবে আরেক বিদেশিকে নামাতে গেলে তখনই আপত্তি তোলেন কিংসের অধিনায়ক তপু বর্মণ। তা ছিল পুরোপুরি বৈধ। কেননা হেনরিক লাল কার্ড পাওয়ার পর তো নতুন করে বিদেশি নামানোর আর কোনো সুযোগ নেই। অবাক লাগে ম্যাচের রেফারি বা ম্যাচ কমিশনার আইনের তোয়াক্কা না করে আরেক বিদেশি নামানোর অনুমতি দিয়েছিলেন। যদিও পরে তাদের শোকজ করা হয়েছে। কিন্তু দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকলে খেলোয়াড়দের স্পিড কি থাকে?

ম্যাচে পুলিশ সমতা আনলেও কিংস যেভাবে আক্রমণ চালাচ্ছিল তাতে গোলও করতে পারত। হয় তো পুলিশও গোল পেত। দুই ঘণ্টা ম্যাচ বন্ধ রেখে সর্বনাশটা করেছেন রেফারি বা ম্যাচ কমিশনার।



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews