হিব্রু ভাষায় বেশ প্রচলিত একটি বাগধারা হচ্ছে ‘চুৎস্পাহ’। এর বাংলা হচ্ছে ‘চরম ধৃষ্টতা’। এই চুৎস্পাহ কেন্দ্র করে হিব্রু ভাষায় বেশ কিছু গল্প প্রচলিত আছে।
একটি গল্প এমন—এক ছেলে নিজের মা–বাবাকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করে। পরে পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে হাজির করে আদালতে। সেখানে বিচারকের উদ্দেশে ছেলেটি বলে, ‘মহামান্য, আমার প্রতি দয়া করে সহানুভূতি রেখে বিচার করবেন।’ ওই ছেলের কথা শুনে বিচারক তো অবাক! বিচারক তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তুমি নিজের মা–বাবাকে হত্যা করেছ, আমি কোন দুঃখে তোমার প্রতি সহানুভূতি দেখাব!’ জবাবে কাঁদো কাঁদো গলায় ছেলেটি বলল, ‘সহানুভূতি দেখাবেন কারণ, আমি তো অনাথ, আমি তো এতিম!’
একেই বলে চুৎস্পাহ বা চরম ধৃষ্টতা। আর এমনই চরম ধৃষ্টতার নজির হিব্রু গল্পের আসর ছেড়ে যেন গেড়ে বসেছে বাংলাদেশের তেলের পাম্পগুলোতে।
রাস্তায় তেলের পাম্পের সামনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি এখন এক পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু এই সারি যখন রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে যায় এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর জানা যায় ‘তেল নেই’, তখন আর তা কেবল সাধারণ ভোগান্তি থাকে না; তা হয়ে দাঁড়ায় একটি নাগরিক অবমাননা।