অনুপমা বলেন, ‘ওই একটি পোস্টের পেছনে আছে দুই বছরের যন্ত্রণা, শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার অভিজ্ঞতা।’ তাঁর দাবি, হঠাৎ আবেগের বশে তিনি পোস্টটি দেননি; বরং অনেকটা সময় নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাকে মেনে নেওয়া এবং সেরে ওঠার পরই প্রকাশ্যে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
‘আমি ধীরে ধীরে ছোট হয়ে যাচ্ছিলাম’
নিজের অভিজ্ঞতাকে অনুপমা সরাসরি ‘নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ’ বা আত্মমুগ্ধতাজনিত মানসিক নির্যাতন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, এ ধরনের নির্যাতনের অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিনেত্রী ম্যাডোনা সেবাস্তিয়ানের একটি ইনস্টাগ্রাম রিল দেখেছিলেন। সেটি দেখার পর তাঁর শরীর কাঁপতে শুরু করে।
কারণ, রিলটিতে যে অভিজ্ঞতার কথা বলা হচ্ছিল, সেটি তাঁর নিজের জীবনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছিল।
অনুপমার মতে, নার্সিসিস্টিক অ্যাবিউজ নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়াও এক রকম নয়। কেউ নিজে এ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছেন, কেউ পরিবারের সদস্য বা বন্ধুর এমন অভিজ্ঞতা দেখেছেন। আবার কেউ শুধু শব্দটি শুনেছেন, কিন্তু বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন না। আরেকটি শ্রেণি আছে, যারা বিষয়টিকে নারী-পুরুষের লড়াই হিসেবে দেখে অনুমানের ভিত্তিতে নেতিবাচক মন্তব্য করে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণি হিসেবে অনুপমা উল্লেখ করেছেন তাঁদের, যাঁরা নিজেরাই এমন সম্পর্কে আছেন, কিন্তু এখনো বুঝতে পারেননি যে তাঁরা নির্যাতনের শিকার।
অনুপমার ভাষায়, ‘যাঁরা এর মধ্যে থেকেছেন, কিন্তু এখনো সেটা শনাক্ত করতে পারেননি, তাঁদের সঙ্গেই আমি কথা বলতে চাই। এই শ্রেণিই সবচেয়ে বিপজ্জনক।’