চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় বই-খাতা ছেড়ে অন্যের বাড়িতে কাজ নিতে হয়েছিল। কৈশোর আর তারুণ্যের শুরুটা কেটেছে অন্যের জমিতে শ্রম দিয়ে। এর পরের গল্পটা অবশ্য ভিন্ন। যে গল্প অনুপ্রেরণার, মানুষকে পথ দেখানোর। দিনমজুরি করে কোনো রকমে বেঁচে থাকা রংপুরের কাউনিয়ার ষাটোর্ধ্ব গোলজার হোসেন এখন অন্যকে ভাগ্যবদলের পথ দেখাচ্ছেন।
গোলজার হোসেনের দিনবদলের শুরুটা হয়েছিল মাত্র ১৪টি তেজপাতার চারা থেকে। সেই চারাই ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়েছে উপজেলার হাজারো চাষির শত শত হেক্টর জমিতে। তাঁর হাত ধরে তেজপাতা হয়ে উঠেছে কাউনিয়ার শতাধিক পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার প্রতীক।
উপজেলা কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, কাউনিয়া উপজেলায় তেজপাতাচাষির সংখ্যা এক হাজার ছড়িয়েছে। উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৮৮৩ হেক্টর জমিতে এখন তেজপাতার চাষ হচ্ছে। কাউনিয়ার তেজপাতার ‘সুবাস’ এখন দূরদূরান্তেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন। তাঁদের হাত ধরে ভেষজ এই মসলা ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে।