সপ্তাহান্তে রাশিয়ার ভয়াবহ গোলাবর্ষণের পরও ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের মানুষ সোমবার (২৫ মে) আবারো নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে ফিরেছেন। কেউ রাস্তায় হাঁটছেন, কেউ ক্যাফেতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার শিশুরা খেলছে; যেন যুদ্ধের বাস্তবতা স্বাভাবিক জীবনেরই অংশ।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে কিয়েভে চালানো সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাগুলোর মধ্যে গত শনিবার গভীর রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত চলা হামলাগুলো খুবই ভয়াবহ ছিল। এতে চারজন নিহত হন এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বহু ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

রুশ হামলায় ‘ওরেশনিক’ নামের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে মস্কো দাবি করেছে। এটি শব্দের গতির প্রায় ১০ গুণ বেগে চলতে সক্ষম এবং পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করার সক্ষমতাও রয়েছে।

৩৬ বছর বয়সী দমকলকর্মী রোমান বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, তারা এ পরিস্থিতির সাথে অনেকটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য দেখতে দেখতে মানসিকভাবে তারা এখন অনেকটাই সহনশীল হয়ে উঠেছেন।

তিনি হামলায় ধ্বংস হওয়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে সহায়তা করছিলেন।

অন্যদিকে, একই এলাকায় একটি কফিশপের পাশে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যায় এক তরুণকে। তার হাতে থাকা লাটে ম্যাকিয়াটো কফি যাতে না পড়ে যায়, সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি ছিল।

শহরের এক রাস্তায় শিশুদের খেলাধুলার সময় এক নারী চিৎকার করে সতর্ক করেন, ‘সাবধান, কাঁচ আছে!’

রুশ হামলায় কিয়েভ-মোহাইলা একাডেমিসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি লিবারেল আর্টস বিষয়ে বিশেষায়িত একটি ছোট কলেজ।

তবে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই শিক্ষার্থী মাইখোলা ও মাকসিম জানান, তারা নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত হচ্ছেন।

মাইখোলা বলেন, তারা বিষয়টিকে খুব বড় করে দেখছেন না। জীবন থেমে নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা ঘুমে। শুরুতে মানসিক চাপ বেশি থাকলেও এখন তারা অনেকটাই অভ্যস্ত।

হামলায় কিয়েভের সব জেলাতেই ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো। আলবেনিয়ার রাষ্ট্রদূতের বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রতিবাদে দেশটি রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে।

জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম এআরডি ও ডয়চে ভেলের কার্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হামলার সময় সেখানে কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

এক কফিশপের মালিক ইয়েভগেন প্রুসাক বলেন, হামলার পর তিনি ব্যবসা বন্ধ করার কথা ভেবেছিলেন। তবে মানুষ আবার ফিরে আসায় তিনি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এক ইউক্রেনীয় সেনা দিমিত্রো কফি পান করতে করতে বলেন, যুদ্ধের মাঝেও জীবন চালিয়ে যাওয়া ‘অদম্যতার প্রতীক’।

সূত্র: বাসস



Contact
reader@banginews.com

Bangi News app আপনাকে দিবে এক অভাবনীয় অভিজ্ঞতা যা আপনি কাগজের সংবাদপত্রে পাবেন না। আপনি শুধু খবর পড়বেন তাই নয়, আপনি পঞ্চ ইন্দ্রিয় দিয়ে উপভোগও করবেন। বিশ্বাস না হলে আজই ডাউনলোড করুন। এটি সম্পূর্ণ ফ্রি।

Follow @banginews