অ্যাপেন্ডিকসের অপারেশনের পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে হাজির হতে পারেনি চিত্রনায়িকা পরীমনি। ফলে শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলায় তার জেরা পিছিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯–এর বিচারক শাহাদাৎ হোসেন ভূঁইয়ার আদালতে পরীমনির জেরার দিন ধার্য ছিল। তবে তিনি উপস্থিত না থাকায় আদালত আগামী ৯ আগস্ট নতুন দিন নির্ধারণ করেন।
পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) জানান, কয়েকদিন আগে পরীমনির অ্যাপেন্ডিসাইটসের অপারেশন হয়েছে। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় আদালতে আসতে পারেননি। এ কারণে সময় আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
২০২১ সালের ১৪ জুন ঢাকার সাভার থানায় নাসির উদ্দিন ও তার বন্ধু অমির নাম উল্লেখ করে এবং চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন পরীমনি। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর আদালতে নাসিরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন- তুহিন সিদ্দিকী অমি ও শহীদুল আলম।
এরপর একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর এ মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৯ এর তৎকালীন বিচারক হেমায়েত উদ্দিন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৯ এপ্রিল নাসির ও অমির পক্ষে এ মামলার দায় থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন তাদের আইনজীবী।
অন্যদিকে অব্যাহতির আবেদনের বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষ। এছাড়া অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রপক্ষ। ওই বছরের ১৮ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন। এরপর ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর এ মামলায় পরীমনির সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।
এদিকে, ২০২৪ সালের ২৪ জুলাই আদালতে জবানবন্দি দিতে ইতস্ততবোধ করেন পরীমনি। তার আইনজীবী ক্যামেরা ট্রায়ালের মাধ্যমে বিচারকাজ করার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। পরবর্তী সময়ে ওই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলায় পরীমনির জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৮ জুন রাতে বিরুলিয়ার ঢাকা বোট ক্লাবে পরীমনির সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তিনি ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।