ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মনে করেন, বিএনপির বড় নেতাদের চেয়ে তার বেশি জনপ্রিয়তাই ‘কাল’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন ফারহানার ভাষ্য, অসুস্থতা ও কারাবরণের কারণে খালেদা জিয়া যখন রাজনীতি থেকে ক্রমে দূরে সরতে থাকেন, তখন থেকেই তার প্রতি কারও কারও বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। ‘যারা আমার ওপর নাখোশ ছিল, তারা আমাকে হিংসা করত। মূলত পদধারী বড় নেতাদের চেয়ে আমার জনপ্রিয়তা বেশি হওয়ায় আমি টার্গেটে পরিণত হই।
টকশোতে রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘যেদিন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মারা যান, সেদিনই বিএনপি আমাকে বহিষ্কার করল।সকাল ৬টায় দেশনেত্রী তিনি মারা যান, আর আমাকে বিকাল ৪টায় বহিষ্কার করা হয়।দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আমাকে বহিষ্কার করা হয়।মূলত বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় এই বহিষ্কারাদেশ। অথচ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের তখনও ১০-১৫ দিন সময় বাকি ছিল, সেটুকুও অপেক্ষা করা হয়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুধু প্রতিপক্ষই নয়, দলের ভেতরের নেতাকর্মীদের একটি অংশও তাকে নানাভাবে হেনস্তা করেছে। ‘অনলাইনে বড় নেতাদের খুশি করতে কিছু লোক আমাকে তাচ্ছিল্য ও অপমান করত। আওয়ামী লীগের লোকজনের পাশাপাশি বিএনপির ভেতরের অনলাইন গ্রুপের আক্রমণেরও শিকার হয়েছি,’ বলেন তিনি।
সবশেষে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এই দল থেকে বের হয়ে আজ আমি যেন সেই চাপ ও হেনস্তা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থেকে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর মারা যান। ওইদিনই দলের স্থায়ী কমিটির সভায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছিলেন।