ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় শুরু হওয়া আফ্রিকান ইউনিয়নের (এউ) বার্ষিক সম্মেলনে এবার আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সম্মেলনটি আফ্রিকার অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে ঘিরে আয়োজিত, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক শুল্ক নীতি, বিদেশি সাহায্য হ্রাস এবং অভিবাসন সংক্রান্ত কড়াকড়ি আফ্রিকান নেতাদের জন্য এক বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানদের আলোচনায় বারবার ট্রাম্পের নাম উঠে আসছে, যাকে বিশ্লেষকরা ‘এলিফ্যান্ট ইন দ্য রুম’ বা এমন এক বড় সংকট হিসেবে দেখছেন যাকে এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব। বিশেষ করে আমেরিকার নতুন বাণিজ্যিক শুল্ক নীতি আফ্রিকার উদীয়মান অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির কারণে আফ্রিকার দেশগুলোতে মার্কিন অনুদান ও উন্নয়ন সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। এর ফলে মহাদেশটিতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো খাতের প্রকল্পগুলো থমকে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া অভিবাসন বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে আফ্রিকার অনেক দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে যে বাধার সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়েও সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক নেতা।
আফ্রিকান ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তার উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে মিলিত হয়েছি যখন বিশ্ব রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। আমাদের এখন স্বনির্ভরতার দিকে আরও বেশি নজর দিতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।"
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর নীতির মুখে আফ্রিকার দেশগুলো এখন বিকল্প হিসেবে চীন এবং রাশিয়ার দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়তে পারে। সম্মেলনে অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা মনে করছেন, আমেরিকার সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন মোকাবিলায় আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
সম্মেলনটি আগামী কয়েকদিন ধরে চলবে, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের সাথে আফ্রিকার ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক সম্পর্কের রূপরেখা নির্ধারিত হতে পারে।