পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম মুনিরাবাদ। ওই গ্রামের কোকরাকাঠী জামে মসজিদ ও মাদরাসার সামনে তিনটি লাশের খাটিয়া। খাটিয়া তিনটিতে শুয়ে আছে একই পরিবারের তিন সদস্য। এমন হৃদয় বিদারক দৃশ্য আগে কখনো দেখেনি গ্রামের কেউ। তিন জনই ঢাকা থেকে বাসে করে আসছিলেন গ্রামের বাড়িতে কোরবানি করতে। আর কোরবানির দিনই গোপালগঞ্জে সড়কে প্রাণ গেল একই পরিবারের ৩ জন সহ আরো ২ জনের। এই মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ মুনিরাবাদ গ্রাম।
তিন জন হলেন মোঃ সোহাগ (৩৭), তার স্ত্রী খাদিজা খাতুন (৩৪) ও ছেলে আরমান (৮)। শুক্রবার ২৯ মে সকাল ১০টায় জানাজা শেষে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।
জানা যায়, একটি বাসের সঙ্গে একটি মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মুনিরাবাদের ওই ৩ জনসহ আরো ২ জন নিহত হয়।
দুর্ঘটনাটি ঘটে ২৮ মে বৃহস্পতিবার কোরবানির দিন দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়।
এ ঘটনা শুনে পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী (রবিবার ৩১ মে) বিকাল ৫ টার দিকে মৃত্যুব্যক্তিদের স্বজনদের সাথে দেখা করতে নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের মুনিরাবাদ গ্রামে তাদের বাড়ীতে যান এবং নিহত ৩ জনের পরিবারের পক্ষে একমাত্র বড় ছেলে রহমান (১১) এর হাতে ২৫ হাজার করে মোট ৭৫ হাজার টাকা নিজের ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং তার পড়ালেখার খরচ বহন করবেন ও তাদের আগামী ১ মাসের চাল-ডালসহ নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার প্রদানের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সময় এমপি মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, নিহতের পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১১ বছরের শিশু সন্তান রহমতের পড়ালেখা, ভরণপোষন ও উন্নত ভবিষ্যতের জন্য বিআরটিএ থেকে প্রত্যেকের নামে ৫ লাখ টাকা করে মোট ১৫ লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য ইতিমধ্যেই চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন এবং শিগগিরই তারা এই সহযোগিতা পেয়ে যাবেন।
নিহতদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নাজিরপুর উপজেলা আমির মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক, কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. হাসানাত ডালিম, উপজেলা যুববিভাগের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সেক্রেটারী জাহিদুল হক, শিবির সভাপতি মো. আবু হানিফ প্রমুখ।
বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন